বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দুদিন সেন্টমার্টিনে আটকে থাকা ৩ শতাধিক পর্যটক অবশেষে টেকনাফে ফিরছেন।
মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সকাল হতে ডজনাধিক ট্রলারে সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন পর্যটকরা। এর মধ্যে বেলা ১১টার দিকে ৪০ জনের যাত্রীবাহী একটি ট্রলার পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাটে পৌঁছায়।
সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশন কর্মকর্তা লে. তারেক আহমেদ জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকরা মঙ্গলবার সকাল থেকে ফিরতে শুরু করেছেন। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় ভ্রমণে এসে সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছিল তিনশ’র বেশি পর্যটক। যাতে তারা ঠিকমতো টেকনাফে পৌঁছায় সে ব্যাপারে খোঁজখবর রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, সোমবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু গতকাল কোনো ট্রলার সেন্টমার্টিন ছেড়ে আসেনি। কারণ দ্বীপ থেকে একটি ট্রলার টেকনাফ পৌঁছাতে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। রাতের মধ্য সাগরে কোনো খারাপ অবস্থা হলে আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হতো। এছাড়া রাতের বেলা টেকনাফে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়াটাও অসাধ্য হতো। তাই মঙ্গলবার সকালে সেন্টমার্টিন থেকে যাত্রীবাহী ট্রলার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই দ্বীপবাসী জীবন কাটায়। একমাত্র প্রবালদ্বীপ হিসেবে পর্যটকরা এখানে আসেন। এডভেঞ্চার প্রিয়রা কাঠের বোটেও ভ্রমণে চলে আসেন। পক্ষকালেও এমন অনেক পর্যটক ছিলো। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকে তিনশতাধিক পর্যটক আটকা পড়লেও প্রশাসন ও দ্বীপের লোকজন তাদের যত্ন করেই রেখেছিল। আজ (মঙ্গলবার) আবহাওয়া স্বাভাবিক দেখায় তারা দ্বীপ ত্যাগ করেছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, খবর পেয়েছি আটকাপড়া পর্যটকগণ কাঠের বোটেই ফিরে এসেছে। সবাইকে নিরাপদে মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোই আমাদের লক্ষ্য ছিল, সেটা সফল হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় আটকা পড়েন পর্যটকরা।
ইত্তেফাক/এমআর