অণুগল্প

সোহাগের কাউয়া

 

একটা কাউয়ারে ডাক দিয়া কইছি, অই কাউয়া তোরে না আমার অনেক ভালা লাগে। তোরে আমি খুব ভালোবাসি।

কাউয়া কয়, চুপ থাহেন! মস্কারি করেন! মস্কারি করতে খুব মজা লাগে, না!

—তুই এরহম করতাছস ক্যান? তোরে আমি ভালোবাসি। সত্যি! সত্যিই ভালোবাসি কইতাছি।

—কইছি না চুপ থাকেন!

—তুই ফাইজলামি করতাছস। কথা কইলে কথা মানছ না। ভালা কথা মস্কারি মনে করছ। তুই চুপ থাক!

কাউয়া চুপ হয়ে গেল। এক মিনিট পার হলো, তাও কিচ্ছু কয় না। তখন আমিই আবার কইলাম, অই কাউয়া অই, তুই এমন করছ ক্যান রে? তোরে ভালোবাসলে সমস্যাটা কী?

কাউয়া কয়, সমস্যা কী আপনে জানেন না?

—না, জানি না। তুই ক, কী সমস্যা।

—আমি তো কাউয়া, কাউয়া। আমি দেখতে সুন্দর না। জঘন্যতম খারাপ। আমার চলনবলন, গায়ের রং, গলার স্বর কিচ্ছুই ভালা না। সব খারাপ, সব। আমগোরে কেউ ভালোবাসে না, ভালোবাসার কথাও না। আমগো লগে মাইনষে মস্কারি করতেই পছন্দ করে। আফনেও হেই রহমেই...

—(চিত্কার দিয়া কইলাম) কা-উ-য়া...মনডায় কইতাছে তোরে একটা ঠাডায়া চটকনা মারি। কিন্তু মারলাম না। মায়া লাগে দেইখ্যা। তুই আমার সোহাগের কাউয়া দেইখ্যা।

—দুই-একটা চটকনা মারতে চাইলে মারেন। মাইরা এইহানতে যাইয়া আমারে একলা থাকতে দেন। আমগোর জন্ম লাত্তি, উষ্টা আর চটকনা খাওনের লাইগ্যাই।

—কাউয়া, তোরে যে আমার কী করতে মন চাইতাছে, কইতে পারতাম না। হুন, তুই সুন্দর না, কাইল্যা কুচকইচ্ছা। তোর গলার স্বর ভালা না, হেন ভালা না, তেন ভালা না। এইল্যাইগ্যাই আমি তোরে ভালোবাসি। কারণ, অইলো তুই সুন্দর অইলে অনেক সমস্যা আছিল। তুুই সুন্দর না দেইখ্যাই তোরে আমি...। আমার ভালোবাসা যদি সুন্দর থাকত তাইলে...

—তাইলে...?

—অই যাহ। তুই বুঝলে বুঝ, না বুঝলে না বুঝ। আমি তোরে ভালোবাসি, তুই আমার সোহাগের কাউয়া—এইডাই ফাইনাল।