স্পোর্টস রিপোর্টার
টানা ১৬টি টি-২০ খেলেছিলেন নাঈম শেখ। হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও গত কয়েক মাস ধরে বলে আসছিলেন বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এ বাঁহাতি ওপেনারকে। আবুধাবিতে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে বলার মতো রান পাননি তিনি। তাতেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে একাদশ থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয় নাঈমকে!
স্কটল্যান্ডের কাছে হারের পর টিম ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্ত চরম সমালোচিত হয়েছিল। এমনকি বিসিবির ঊর্ধ্বতনরাও অবাক হয়েছিলেন এমন সিদ্ধান্তে। বিসিবি সভাপতির সঙ্গে মিটিংয়ে যার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্টকে। তারপরই দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল কোচের কথায়।
গতকাল ওমানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে একাদশে ফিরেছেন নাঈম শেখ। সৌম্য সরকারের জায়গায় সুযোগ পান বাঁহাতি এ ওপেনার। চিরচেনা ডট বলের মিছিলে ইনিংসের শুরু করেছিলেন তিনি। তবে ওপেনিংয়ে একপ্রান্ত আগলে খেলার কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন করেছেন এ তরুণ। বলা চলে সবার আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন।
ব্যক্তিগত ৩০ রানের মধ্যেই অবশ্য দুইবার জীবন পেয়েছিলেন তিনি। লিটন দাস, মেহেদী পাঁচ ওভারের মধ্যে সাজঘরে ফিরে গেলেও নাঈম শেখ উইকেটে টিকে ছিলেন। সাকিবকে নিয়ে ইনিংস বিনির্মাণের কাজটা করে গেছেন। যদিও স্ট্রাইক রেটের বিবেচনায় খুব ভালো ছিল না তার ইনিংসটা।
নাঈম থাকলেও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে আশার সলতে জ্বালিয়েছেন সাকিব। প্রথম ম্যাচে ২৮ বলে ২০ রান করেছিলেন তিনি। গতকাল যেন ধীরে ধীরে স্ব-মহিমায় ফিরেছিল বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ব্যাট। চার নম্বরে নেমে দলের রানের চাকা সচল রাখার কাজটা দক্ষতার সঙ্গেই করেছেন তিনি।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪১ রান তাড়া করতে নেমে অনেক সংগ্রাম করেছিলেন ব্যাটসম্যানরা। ১৩৪ রানের বেশি যেতে পারেনি বাংলাদেশ। ওমানের সঙ্গে সেই জড়তা কাটিয়ে উঠেছে টাইগাররা। রানের ছন্দ ফিরেছে। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে প্রাণ ফিরিয়েছেন সাকিব। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন তিনি। ওমানের বোলারদের তৈরি করা চাপটা উড়িয়ে দিয়েছেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
তৃতীয় উইকেটে সাকিব-নাঈমের জুটিতে ১৪তম ওভারেই বাংলাদেশের স্কোর ১০০ রান স্পর্শ করে। তাদের জুটিটা ভেঙে যায় ঐ ওভারে। সরাসরি থ্রোয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে যান সাকিব। জুটি থেমে যায় ৮০ রানে। ২৯ বলে ৬টি চারে ৪২ রান করেন সাকিব। নাঈম ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৪৩ বলে। চার মেরে মাইলফলক স্পর্শ করেন এ বাঁহাতি ওপেনার। এ সময় তিনটি করে চার ও ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। যা এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি।