ওমানের চ্যালেঞ্জ টপকে গেল বাংলাদেশ

ম্যাচটা তখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। ইনিংসের ১৭তম ওভারে সাকিব আল হাসান তুলে নিলেন পরপর দুই বলে উইকেট।  আয়ান খান, নাসিম খুশির তোলা দুটি ক্যাচই লং অফে ধরেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু ক্যাচ ধরে দুই বারই হাত তুলে সতীর্থদের দৌড়ে না আসতে ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

কারণ তার আগের সময়টাতে বিষম চাপে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। এমনকি বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করতে চলে গিয়েছিলেন তিনি। বোলিংয়ের বাজে শুরুতে ডুবতে বসেছিল জয়ের স্বপ্ন। তাসকিন-মুস্তাফিজ বল হাতে উদারহস্ত। টপাটপ ক্যাচ পড়ছে। মুস্তাফিজ তৃতীয় ওভারে এবং ষষ্ঠ ওভারে খোদ মাহমুদউল্লাহই সহজ ক্যাচ ফেলে দেন। ওমানের ব্যাটসম্যানদের তোপে চিড়েচ্যাপটা তখন বাংলাদেশ।

মূলত ১৩তম ওভারে জাতিন্দার সিং আউট হওয়ার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পায় টাইগাররা। আবারও ত্রাতা হয়ে ধরা দেন সাকিব। এ বাঁহাতি স্পিনারের বলে জাতিন্দার ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন। তখনই ওমানের প্রতিরোধ, পালটা চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রচেষ্টা শক্তি হারিয়েছে।

অবশেষে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ওমানকে ২৬ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইল মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। সুপার-১২ পর্বে যেতে আগামীকাল শেষ ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকেও হারাতে হবে। একই সঙ্গে স্কটল্যান্ড-ওমানের ম্যাচটার দিকেও প্রখর নজর রাখতে হবে টাইগারদের।

বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্য। সাকিব ২৯ বলে ৪২ রান করেন। বোলিংয়ে ২৮ রানে নেন ৩ উইকেট। তাই ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেলেন তিনি। ব্যাটিংয়ে নাঈম শেখকে নিয়ে ৮০ রানের জুটি গড়েছিলেন সাকিব। তাতেই ১৫৩ রানের পুঁজি গড়েছিল বাংলাদেশ। নাঈম শেখ ৬৪ রান করেন। জবাবে ওমান ৯ উইকেটে ১২৭ রানের বেশি যেতে পারেনি। মুস্তাফিজ ৩৬ রানে ৪টি উইকেট নিয়েছেন।

জয়ের পর সাকিব বলেছেন, ওমানের চ্যালেঞ্জটা উতরে গেছে বাংলাদেশ অভিজ্ঞতার কারণে এবং স্নায়ু ধরে রাখায়। গতকাল বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘অবশ্যই স্কটল্যান্ডের কাছে হার পুরো দলকে ব্যথিত করেছে। কারণ আমরা এটা প্রত্যাশা করিনি। এটা খুব কঠিন ছিল। ওমান খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। আমরা স্নায়ু ধরে রাখতে পেরেছিলাম। অভিজ্ঞতা এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে।’

ওমানের লড়াইয়ের প্রশংসা করে সাকিব বলেন, ‘ওমান ১৬ ওভার পর্যন্ত ম্যাচে ছিল। তাই তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা হূদয় দিয়ে খেলেছে।’

সুপার-১২ পর্বের সমীকরণটা ভালোই জানা আছে টাইগারদের। গতকাল সাকিব জানালেন, সেখানেই ফোকাস রয়েছে দলের। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এই জয়টা আমাদের দলটাকে থিতু করে দিবে। আমাদের আরেকটা ম্যাচ আছে, যেটা আমাদেরকে জিততেই হবে। আমাদেরকে দেখতে হবে ওমান-স্কটল্যান্ড ম্যাচে কী হয়।’