সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আঘাত হেনেছে দেশের মূল চেতনায়

শারদীয় দুর্গোত্সবে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার এবং কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে সংগৃহীত আসক তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের হিসাব মতে, দেশের ১৮টি জেলায় এ সময়কালে (গত ১৩ অক্টোবর-২০ অক্টোবর পর্যন্ত) সহিংসতার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সাত জনের, আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৭৪ জন। এর মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিত্সাধীন বেশ কয়েক জন। প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৭২টি, বাড়িঘরে হামলা হয়েছে ৭৭টি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৪১টি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ সব তথ্য জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আসক নির্বাহী পরিষদ মহাসচিব মে. নূর খান, নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল, পরিচালক-কর্মসূচি নীনা গোস্বামী। মূল বক্তব্য পাঠ করেন আসক অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড নেটওয়ার্কিংয়ের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফয়জুল কবির।

মূল বক্তব্যে বলা হয়, বৈষম্য আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছে, তা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আঘাত হেনেছে দেশের মূল চেতনাকে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ধর্মান্ধ উগ্রবাদী গোষ্ঠীর থাবা থেকে রাষ্ট্র নিজ নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি, এমন বর্বরতা প্রতিহত করতে কিংবা নাগরিকের আস্থা ও নির্ভরতার স্থল থেকেও ব্যর্থ হয়েছে। এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য লজ্জা আর হতাশার।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটলেই, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো একে অন্যকে দোষারোপ করতে শুরু করে—যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করে ঘটনার পেছনে যারাই থাকুক না কেন—সরকারের দায়িত্ব নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। 

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় অবিলম্বে জাতীয় সংসদে বিশেষ অধিবেশন আহ্বান, জাতীয় পর্যায়ে করণীয় নির্ধারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে গণশুনানির আয়োজন করে প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত ও আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পুনর্নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে চিকিত্সাসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।