কার কাছে নিরাপদ নারী?

তানিয়া আনজু

কি কি কারণে ঘটছে? শুধুই কি অবাধ মেলামেশা নাকি আরো কোনো কারণও আছে? এই নগ্নতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না কোনো বয়সের মেয়েই। অভিজাত পরিবার থেকে শুরু করে পথশিশুটিও বাদ পড়ছে না। অবিরত বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো এই বন্যায় আক্রান্ত পুরো দেশ। সাবালিকাদের যেমন নিজেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়, অন্যদিকে অল্পবয়স্কদের নিয়ে পড়তে হয় চরম অনিশ্চয়তায়। ক্লাসরুম, খেলার মাঠ এমন কি নিজ বাড়িতেও চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করে অধিকাংশ নারী। কার কাছে নিরাপদ নারী!

নিজের দাদু, বাবা, ভাই, প্রতিবেশী, সহপাঠী, শিক্ষক সবার দ্বারাই নির্যাতিত। চরম নৈতিক অবক্ষয়ে হাবুডুবু পুরো জাতি। পশুত্বের সীমাও অতিক্রম করেছে মানুষ। ধর্ষণের পর হত্যা যেন একটি ধারাবাহিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলছে, শুধু জানুয়ারিতেই ধর্ষণের শিকার ৭৯ জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫ জনকে আর হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে ৭ জনকে। শুধু একমাসেই এই অবস্থা সমগ্র দেশের। আগামীতে পরিস্থিতি কোনিদকে গড়াবে তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। কেন হচ্ছে? নৈতিক অবক্ষয়, উগ্রতা, পর্ণোগ্রাফির সয়লাব, পারিবারিক শিক্ষার অভাব, প্রতিশোধ পরায়ণতা, অসম বয়সে বিয়ে, আইনের সঠিক ব্যবহারের অভাব, ধর্মীয় বিধিনিষেধ পালন না করা, দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব, শারীরিক অসুস্থতা, অবাধ মেলামেশা।  তবে কি এ থেকে উত্তরণের কোনো উপায় নেই? হ্যাঁ আছে। এই যেমন- উন্নত নৈতিক চরিত্রবান করে গড়ে তোলার জন্য পরিবার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা। নম্রতা মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে পৃথক করার অন্যতম মাধ্যম এটা শিশুকাল থেকে বোঝানো। পর্ণোগ্রাফি রোধে সরকারের পক্ষ থেকে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এটা যে বিকৃত পন্থা সেটা সন্তানদের বোঝানো। ব্যক্তির নিজেরও সচেতন হওয়া জরুরি। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মানসিক গঠনের দিকে মনোযোগী হওয়া। বিভিন্ন কারণে নারীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার না করা। অসম বয়সের বিয়ের ক্ষেত্রগুলো সংকুচিত করা। প্রয়োজনে নিষিদ্ধ করা। আইনের সঠিক প্রয়োগ করা। কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্মীয় বিধানাবলি পালনে মনোযোগী হওয়া। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রাজনৈতিক, সামাজিক সকল প্রকার অধিকার থেতে বঞ্চিত করা। নির্যাতিতার পাশে দাঁড়ানো। হরমোনাল বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। খুব দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি সরকারের কঠোর ভূমিকাই পারে সমাজ থেকে এই চরম ব্যাধির বিনাশ সাধন করে একটি সুষ্ঠু-সুন্দর সমাজ উপহার দিতে।

n লেখক:শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়