ফ্যাশনে কুর্তি

ফ্যাশন নিয়ে ভাবে না এমন মানুষ পাওয়া বেশ খুবই মুশকিল। দিনরাত, ঘরে কিংবা বাইরে অথবা ঋতুভেদে ফ্যাশনপ্রেমী মানুষ সবসময় চায় পোশাকে নতুনত্ব। এ সময়কার মেয়েদের পোশাকের তালিকায় বড় জায়গাজুড়ে আছে কুর্তি এবং টপস। আজকাল যেহেতু ফ্যাশন জগতে বিশ্বায়নের প্রভাব ব্যাপক, তাই এতে প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন ধরনের কুর্তি টপসের ব্যবহার। বিশেষ করে কিশোরী থেকে তরুণীরা বেসিক প্যাটার্ন ও টপস-কুর্তি কাটের মধ্যেও খুঁজে বেড়ান বৈচিত্র্য। তাই সহজে নিজের ট্রেন্ডি ও আকর্ষণীয় লুক তৈরি করতে খুঁজে থাকেন এসব বাহারি কুর্তি এবং টপস। লিখেছেন শাহিনুর আলম কলি

আমাদের দেশে যেহেতু পশ্চিমা পোশাকের প্রভাব রয়েছে, বাঙালি নারী এটিকে নিজের মতো বানিয়ে নিয়েছেন নিজস্ব ঢংয়ে। কুর্তি এবং টপস ম্যাচিং ঝামেলা ছাড়া সহজেই পরা যায় আর দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় জনপ্রিয়তা পেয়েছে কয়েকগুণ বেশি। ফরমাল পরিবেশেও কুর্তি আভিজাত্য নিয়ে আসে। সব ধরনের কুর্তি মানিয়ে যায় রাতে ও দিনের সব আয়োজনেই। যা ব্যবহারে আপনাকে করে তুলবে আরও ফ্যাশনেবল। কুর্তি এবং টপস আজকাল মেয়েদের বিশেষ পছন্দের পোশাক। কারণ কুর্তি, টপসের কাটিংয়ে রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। পোশাকটা ঢিলা হওয়ায় এর সঙ্গে একটু চাপা টাইপের জিন্স প্যান্ট বা থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্টের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায় এবং লেগিংসের সঙ্গেও দেখতে ভালো লাগে। একরঙা ও প্রিন্ট দু-ধরনের লেগিংসের সঙ্গে পড়া যায় নিমেষেই। টপসের চেয়ে কুর্তিতে লেন্থটা বেশি থাকে। কিছু কুর্তিতে নানা ডিজাইনের কলার ব্যবহারে নতুনত্ব আনা হচ্ছে। কুর্তির নিচের অংশে কাটে নতুনত্বের প্রয়াস চোখে পড়ার মতো। গোলাকার, নৌকা, ভি ইত্যাদি পুরনো কাটেও বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছে। কুর্তার নিচের অংশে অর্থাত্, বটম লাইনে লেয়ারিং নকশা দেখা যাচ্ছে। সামনের অংশের চেয়ে পেছনের বেশ খানিকটা ঝুল নামানো কাটিংও আছে। বিভিন্ন কাটিং ও প্যাটার্নে তৈরি হচ্ছে টপস। কখনও গলায়, কখনও হাতা অথবা বটম লাইনে আসছে বৈচিত্র্য। টপসের ক্ষেত্রে সিল্ক, সাটিং, জর্জেট, সুতি কাপড়ের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। টপস এবং কুর্তির কাটের মধ্যেও বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে। টপসগুলো খুব বেশি ফিটিংভাবে তৈরি না করে একটু ঢিলেঢালা রাখা হয়। কুচি, প্লিট, ইলাস্টিক, বেল্ট, ইয়োক, পুঁতি-চুমকি, প্যাচওয়ার্কসহ বিভিন্ন অনুষঙ্গ ব্যবহারে যোগ করা হচ্ছে নতুনত্ব। টপসগুলো শুধু আড্ডা বা ঘোরাঘুরিতেই নয়, অফিস অথবা ক্লাসেও দারুণ মানানসই। আজকাল সালোয়ার-কামিজে অনেক টিনই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। আবার ফ্রকও এ সময় ঠিক তাদের মানায় না। তাই তারা টপস কিংবা কুর্তিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাই ট্রেন্ডের সঙ্গে আরামদায়ক ও স্বস্তিকর পোশাক বাছাইয়ে তারা বেছে নেয় টপস কিংবা কুর্তি সহজভাবে। ক্লাস, ঘোরাঘুরি, কেনাকাটা এমনকি করপোরেট কালচারেও পোশাকটি নিজের জায়গা করে নিয়েছে গুরুত্বের সঙ্গে। বাহারি সব ডিজাইনের কুর্তি কামিজ শুধু ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবেই নয়, উত্সবেও প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যাপকভাবে। পরিধেয় পোশাকের ধরনে নতুনত্ব আনলে যেমনটি ভালো লাগবে নিজের কাছে, তেমনি অন্যদের চোখেও হয়ে উঠা যায় আকর্ষণীয়। তবে সিঙ্গেল টপস এবং কুর্তি জন্য জনপ্রিয় অঞ্জন’স-এর মারজিন। এখানের ফ্যাশনে কুর্তি, টপস সাশ্রয়ী, আরামদায়ক ও ডিজাইন-বৈচিত্র্য থাকায় ফেবারিট। তবে টপসের কাপড়ের ধরন ও প্যাটার্নভেদে বিভিন্ন দাম পড়বে। তাদের ডিজাইনরা নিজস্ব পছন্দ জাহিরের উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে টপস আর কুর্তিকে। তরুণী এবং কিশোরীদের কথা মাথায় রেখে নিয়ে এসেছে বিভিন্ন মনমাতানো ডিজাইনের কুর্তি আর টপস।  মারজিন বাই অঞ্জন’স-এর চিফ অপারেটিং অফিসার ফারুক হেলাল জানান, এই সময়ে তাদের আউটলেটে নান্দনিক ডিজাইনের কুর্তি ও টপস পাওয়া যাচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে মেরুন এবং সেফ গ্রিন প্রিন্টেড ফাইন জর্জেট লং টপস। কম্ফোট প্যাটার্ন কাটিং অ্যান্ড সুইং। থ্রি-কোয়ার্টার হাতা। কাপড়ের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যা সুন্দর মার্জিত শৈলী প্রায়শই ফ্যাশনেবল।  কালো ফ্লাওয়ার মটিফ প্রিন্টেট ফাইন জর্জেট শট টপস। আবহাওয়া আর পরিবেশ বুঝে হাতার কাটিংয়েও এসেছে বৈচিত্র্য। নরম আরামদায়ক ফেব্রিক, সুন্দর কাট দ্বারা আকর্ষণীয় করা হয়েছে। মাল্টিকালার ফ্লাওয়ার মটিফ প্রিন্টেট ফাইন জর্জেট লং টপস। কম্ফোট প্যাটার্ন কাটিং অ্যান্ড সুইং। কারচুপি স্টোন ফিটিং সহ থ্রি-কোয়ার্টার হাতা। যেন হাজারো রঙের সংযোজন ঘটিয়েছে এখানে, যা টপসকে করছে আরো কালারফুল। এছাড়াও বল প্রিন্টেড ফাইন জর্জেট লং টপস। কম্ফোট প্যাটার্ন কাটিং অ্যান্ড সুইং। থ্রি-কোয়ার্টার স্টাইলিশ ও আরামদায়ক হাতা সহজেই আর্কষণ করে সবাইকে। মারজিন ব্র্যান্ডটির বিভিন্ন শাখার পাশাপাশি ফেসবুকে মারজিন ফ্যান পেজেও অর্ডার দেওয়া যাবে এসব পণ্য। ঋতু অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ রুচিশীল মার্জিত ও আকর্ষণীয় পোশাক পড়াটা জরুরি। বিচিত্র রঙ-ঢঙ্গের কুর্তি, বহু ঢঙ্গে-রীতিতে পরিধানের বর্ণনা ইতিহাসে পাওয়া যায়। নারীর ফ্যাশন সচেতনতা সময়ের সঙ্গে মিল রেখে সামনের দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকুক।