l নাজমা সুলতানা মেন্ডিজ
যেখানে আমরা আমাদের জীবনের মূল্যবান মুহূর্ত আমাদের পরিবার এবং বন্ধুুদের সঙ্গে কাটাই সেই স্থানটি কোনোভাবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। তাই আমি মনে করি, এক্ষেত্রে অবশ্যই একজন নকশা বিশেষজ্ঞ সাহায্য করতে পারেন। এতে সময় এবং অর্থ সাশ্রয় হয় এবং সেইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ নকশার চমত্কার মান নিশ্চিত করা যায়।
আপনার বাড়ির গৃহসজ্জা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় এবং আপনি কীভাবে এটি করতে পারেন তা নির্ধারণ করা অন্য বিষয়। প্রথমটি একটি সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু পরেরটি অনেক প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে। গৃহসজ্জার জন্য ব্যয়বহুল আসবাবপত্রের প্রয়োজন নেই। প্রকৃতপক্ষে একটি স্থানকে আকর্ষণীয় এবং কার্যকরী করে তোলার অনেক সহজ উপায় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানটির জন্য কতটুকু উপযুক্ত, প্রযুক্তিগত এবং সৃজনশীল সমাধান করতে পারা যায়। এখানে প্রত্যেকটি ব্যাপার লক্ষণীয় এবং একটির সঙ্গে আরেকটির সংযোগ রয়েছে।
বাড়ির অভ্যন্তর নকশা করার ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো প্রতিটি রুমের স্থান এবং প্রয়োজনীয়তা বোঝা। পরিকল্পনা করা এবং এর জন্য একটি উপযুক্ত বাজেট তৈরি করা ইন্টেরিয়র ডিজাইনের আরেকটি ধাপ।
প্রকল্প শুরু করার আগে অভ্যন্তরীণ নকশা পরিকল্পনায় কিছু প্রশ্ন থাকে—
বাজেট কত হবে?
কতটুকু সময় লাগবে?
কোন কোন ঘরে কী কাজ হবে এবং কোন সময়গুলো কাটানো হবে?
পরিবারে কতজন আছে এবং কত মানুষের লোক সমাগম হবে?
কে কোন পেশায় আছে?
কোন আসবাবপত্র কোথায় রাখা উচিত?
আপনি কী চাচ্ছেন তা জানার পর বাড়িতে কতগুলো কাজ করতে পারেন তার সংখ্যার সাহায্যে আপনার বাজেটটি ভালোভাবে পরিকল্পনা করুন। আপনার অগ্রাধিকারগুলো কী তা নির্ধারণ করে কোন কাজটি আগে হবে এবং কোনটি পরে সেটিও পরিকল্পনায় আনুন।
একটি আদর্শ গৃহসজ্জা নকশা করতে আমি যে বিষয়গুলো গুরুত্ব দেই সেগুলো হলো—
ফ্লোর প্ল্যান :নিখুঁত গোছানো গৃহ নকশা তৈরিতে ফ্লোর প্ল্যান, ফার্নিচার লে-আউট ইলেকট্রিক্যাল প্ল্যান এবং ত্রিমাত্রিক ড্রইং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ফ্লোর প্ল্যান জীবনকে সহজ করে, ভুল আসবাব এবং নির্মাণে অর্থ অপচয় রক্ষা করে।
উদ্দেশ্য এবং চলাচল প্রবাহ :একটি স্থান পরিকল্পনার সময় ট্রাফিক ফ্লো বা চলাচল প্রবাহকে বিবেচনায় রাখা দরকার। স্পেসগুলোর একটির সঙ্গে আরেকটি সুন্দর যোগসূত্র থাকতে হবে। কোন সময় এবং কোন ঘরগুলোতে বেশি লোক সমাগম এবং বেশি কাজ করা হয় সেগুলো দেখতে হয়। সাধারণত লিভিংরুম এবং ডাইনিংরুমে বেশি পারিবারিক সময় কাটানো হয়, তাই এই জায়গাগুলো আয়তনে বড় আর কম আসবাব রেখে উন্মুক্ত রাখলেই ভালো এবং স্বাস্থ্যকর।
প্রাকৃতিক আলো এবং কৃত্রিম আলো :একটি ফ্ল্যাটের সব অংশ প্রাকৃতিক আলো সমান ভাবে নাও পেতে পারে। কোনো অন্ধকার ঘর বা ঘরের অংশকে কিভাবে আলোকিত করা যায় গৃহসজ্জা পরিকল্পনায় তা রাখা উচিত। জানালাগুলোতে সঠিক রঙের পর্দা ব্যবহার করা উচিত যাতে প্রাকৃতিক আলো ঘরে আসতে পারে। যখন প্রাকৃতিক আলো পর্যাপ্ত নয় তখন কিছু বিকল্প আলোর ব্যবহার আনা হয় যা সৌন্দর্য বর্ধনেও সাহায্য করে।
আসবাব ও অন্যান্য গৃহ সৌন্দর্য উপকরণ :ঘরে শুধু প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রই থাকা উচিত। এছাড়া ঘর যতটা উন্মুক্ত থাকে ততই সুন্দর এবং আরাম। কিছু বৈশিষ্ট্যসূচক গৃহসজ্জা উপকরণ ঘরের অন্যান্য রং এবং বিন্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আনা যেতে পারে, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় জিনিস কখনোই ঘরে রেখে অহেতুক আসবাবের গোডাউন বানানো উচিত নয়।
রং এবং রঙের স্কিম :বাড়ির সামগ্রিক থিম তৈরিতে রঙ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি যে রংটি প্রয়োগ করবেন তা ঘরের মানুষের মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রং নির্ধারণে কালার সাইকোলজি জানা খুবই জরুরি।
একটি আদর্শ গৃহসজ্জা পরিকল্পনায় সঠিক নির্মাণ উপকরণ আর রঙের ব্যবহার অনেকটা অঙ্কের মতো। একজন ডিজাইনার হিসাবে পরিকল্পনা করে যখন একটি স্পেস ডিজাইন করি সেটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়। একটি সঠিক ফ্লোর প্লান ও গৃহসজ্জা দিনের শেষে একটি পরিবারের সুখ ও জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করে এবং সেটাই আমার কাজের লক্ষ্য।
লেখক ইন্টেরিয়র ডিজাইনার