এইচ.এম ফেরদাউস হাসান
প্রভাষক
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা
পল্লিজননী
জসীমউদ্দীন
প্রশ্ন-১:কুমড়ো ফুলে-ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা তুই কবে আসবি?
কবে ছুটি ?
ক. ‘পল্লিজননী’ কবিতায় কোন ফলের কথা বলা হয়েছে?
খ. ‘রহিম চাচার ঝাড়া’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘পল্লিজননী’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? তার পরিচয় দাও।
ঘ. “উদ্দীপক এবং ‘পল্লিজননী’ কবিতার বিষয়বস্তু এক নয়”-উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক) ‘পল্লিজননী’ কবিতায় বেথুল ফলের কথা বলা হয়েছে।
খ) ‘রহিম চাচার ঝাড়া’ বলতে গ্রাম অঞ্চলে প্রচলিত এক ধরনের টোটকা চিকিত্সা পদ্ধতিকে বোঝানো হয়েছে।
আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে রোগমুক্তির জন্য পানি-পড়া, ঝাড়-ফুঁক ইত্যাদি চিকিত্সার প্রচলন রয়েছে। গ্রামীণ সহজ-সরল মানুষের বিশ্বাস, অসুস্থ অবস্থায় পানি-পড়া বা ঝাড়-ফুঁক দিলে রোগী খুব সহজে নিরাময় হয়ে থাকে। ‘রহিম চাচার ঝাড়া’ তেমনি একটি গ্রামীণ চিকিত্সা পদ্ধতি। ‘পল্লিজননী’ কবিতায় ‘রহিম চাচার ঝাড়া’ বলতে রহিম চাচার ঝাড়-ফুঁকের কথা বোঝানো হয়েছে।
গ) উদ্দীপকে ‘পল্লিজননী’ কবিতার সন্তানের প্রতি মায়ের আকুলতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘পল্লিজননী’ কবিতায় সন্তানের প্রতি মায়ের অসীম ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়। অসুস্থ ছেলের শিয়রে বসে মা সারা রাত জেগে থাকেন। ছেলের সমস্ত আবদার শোনেন আর অশ্রু মোছেন। ছেলের সব আবদার মেনে নিয়ে তিনি ছেলের সুস্থতার জন্য প্রতীক্ষায় প্রহর গুণতে থাকেন। উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, মা তার সন্তানের বাড়ি ফেরার আশায় দিন গুণছেন। খোকার পছন্দের ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছেন মা। কবে খোকার ছুটি হবে আর খোকা বাড়ি আসবে- এই প্রতীক্ষা মায়ের। উদ্দীপকের সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা ও আকুলতার দিকটি ‘পল্লিজননী’ কবিতার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ) বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে উদ্দীপক ও ‘পল্লিজননী’ কবিতার পার্থক্য রয়েছে।
‘পল্লিজননী’ কবিতায় আমরা সন্তানের অসুস্থতার কারণে মায়ের যে শঙ্কা-আকুলতা তার প্রকাশ দেখতে পাই। মা সারারাত রুগ্ন ছেলের শিয়রে বসে থাকেন। সন্তানের সুস্থতা কামনায় পীরের দরগায় মানত করেন। ছেলের সব আবদারের কথা ভেবে দুচোখ ভরে জল আসে মায়ের। সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ায় হত দরিদ্র মায়ের চিন্তার অন্ত থাকে না। উদ্দীপকে সন্তানের আগমনের প্রতীক্ষায় এক মায়ের অপেক্ষার কথা বলা হয়েছে। ছেলে আসবে বলে মা ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছেন। মা তার সন্তানের আগমনের দিন গুণছেন। খোকার ছুটি হলেই সে বাড়ি আসবে বলে মাকে কথা দিয়েছে।
‘পল্লিজননী’ কবিতায় অসুস্থ ছেলের রোগমুক্তির জন্য মায়ের প্রার্থনা ও শঙ্কার কথা বলা হয়েছে। আর উদ্দীপকে বর্ণিত মায়ের সন্তান দূরে থাকে। ছুটি হলে বাড়ি আসবে বলে সে তার মাকে জানায়। আর মা প্রতীক্ষায় থাকেন ছেলের আগমনের। ‘পল্লিজননী’ কবিতায় সন্তানের প্রতি মায়ের বহুমাত্রিক ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু উদ্দীপকে সন্তানবাত্সল্যের খণ্ডিত প্রকাশ পাওয়া যায়। কবিতায় মা শিয়রে বসে সন্তানের সুস্থতা কামনা করেন। আর উদ্দীপকের মা দূরে থেকে সন্তান আগমনের প্রতীক্ষা করেন। যা বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে তৈরি করে। তাই বলা যায়, উক্তিটি যথার্থ।