‘রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ’

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের বিচার ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি সংগঠন। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ সেখানে অবস্থান নেয়। পরে জাগো হিন্দু পরিষদ, আর্য প্রতিনিধি সভা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ ও আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ - ইসকনসহ কয়েকটি সংগঠন সংহতি জানিয়ে তাতে অংশ নেয়।

অবরোধ কর্মসূচি থেকে বলা হয়, রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপর কী নারকীয় হামলা হয়েছে, প্রশাসন সেখানে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। অবরোধ কর্মসূচি থেকে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত সময়ে সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রত্যেককে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ।

সাম্প্র্রদায়িক হামলার বিচার ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা আইন ও কমিশন গঠন করার বিষয়ে সরকারের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানান হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র। তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে আমাদের দাবির বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি, কিন্তু সরকার আমাদের দাবির বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। তাই আমরা শাহবাগ অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের বিক্ষোভ চলবে। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ও জুমার নামাজ থাকায় সকাল থেকে অবরোধের পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতরা বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। এর আগেও সামপ্রদায়িক হামলায় সংখ্যালঘুরা বিচার পায়নি। হামলার কুশীলবরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আমরা চাই, হামলার নেপথ্যে যারা জড়িত, তাদেরকেও যেন বিচারের আওতায় আনা হয়।

এর আগে শুক্রবার সকাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন। রাতে মশাল মিছিল বের করা হয়। কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্পী সংসদ আহ্বায়ক জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নুরুল হুদা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, তারা এ ধরনের কাজ করতে পারে না। একটি বিশেষ মহল এই ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। আহ্বায়ক জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহমান গ্রামবাংলার শিল্প-সংস্কৃতিগুলো হারিয়ে গেছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। ’

এ সময় বাংলাদেশ নাগরিক কমিটির সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র বলেন, ‘৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। না হলে এসব সহিংসতা বন্ধ হবে না। এখনো কেন পূজার ছুটির জন্য আমাদের আন্দোলন করতে হয়।’

মানববন্ধনকালীন জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেয় কেন্দ্রীয় খেলাঘর, শারদাঞ্জালি ফোরাম, হিন্দু লয়ার্স অর্গানাইজেশন, ঢাকা ওয়ারী রবিদাস হিন্দু কল্যাণ সংঘ, ভক্ত সংঘ, হিন্দু সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন পরিষদ, জাতীয় হিন্দু ফোরাম ও হিন্দু ছাত্র ফোরাম, জাতীয় হিন্দু সমাজ সংরক্ষণ সমিতি, ইন্টারন্যাশনাল শ্রী শ্রী হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন, ঢাকা বিভাগীয় কমিটি, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল হিন্দু ভয়েস (বাংলাদেশ) ।