সেতু না থাকায় নদী পারাপারে ২৭ গ্রামের মানুষের ভরসা নৌকা

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী ইউনিয়নের হলতা বন্দর খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন খয়রাবাদ নদী পারাপার হয় এ উপজেলার দুটি ইউনিয়ন এবং নলছিটি  উপজেলার প্রায় লাখ মানুষ। এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে এই খেয়াঘাটে এসে নদী পার হতে প্রতিদিনই সমস্যায় পড়তে হয়। তাই দীর্ঘদিন ধরে এই জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার যাতায়াতের সার্বিক সুবিধার্থে একটি সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে দেখা যায়, হলতা বন্দর খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকে এ উপজেলার চরাদি, চরামদ্দি ইউনিয়ন এবং ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রায় ২৭ টি গ্রামের মানুষ। নদী এলাকা ঘিরে গড়ে উঠেছে হাট বাজার, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, ব্যাংক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সরকারী গোডাউন, বিভিন্ন এনজিওসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। আর এসবের প্রয়োজনেই প্রতিদিন নৌকা দিয়ে নদী পার হয় বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা, বিভিন্ন অফিসের চাকরিজীবী, ব্যাংকার ও স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষ। একবার নৌকায় উঠতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী নৌকা পেতে অপেক্ষা করতে হয় অন্তত ১৫-২০ মিনিট। এতে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা যথাসময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসে উপস্থিত হতে পারেন না। আর বর্ষা ও ভরা মৌসুমে খেয়া পারাপারে ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে যায় বহুগুণে। তাই এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা অনেকদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন।

হলতা বাজারের ব্যবসায়ী সুলাইমান বলেন, শত বছরের এই জনগুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রতিদিন কয়েক হাজার লোকের সমাগম ঘটে। তাছাড়া সপ্তাহে হাটের দুই দিন ক্রেতা বিক্রেতার চাপ বহুগুণে বেড়ে যায়। তখন খেয়া পারাপারে অনেক দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। তাই এখানে একটা স্থায়ী সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী।

হলতা শের-ই বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী সরদার বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক সহ এই খেয়াঘাটে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ তো নিত্যদিনের ব্যাপার, তাছাড়া রাতে কেউ অসুস্থ হলে নৌকা না পাওয়ায় উপজেলা সদর হাসপাতালে রোগীকে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। 

রানীর হাট বেগম শামসুদ্দীন তালুকদার ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান জানান, প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আমাদের কলেজের অনেক শিক্ষার্থী নদী পারাপার হয়। একবার নৌকা ধরতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী নৌকা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। নৌকার আকারও অনেক ছোট তাই কয়েকটা মোটর সাইকেল উঠলেই আর লোকজন ওঠার জায়গা থাকে না। তাই স্কুল-কলেজে যেতে দেরি হয়ে যায়। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় নৌকা মিস করলে আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হয় তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত একটা সেতু নির্মাণের জোড় দাবী জানাচ্ছি।

উপজেলার চরাদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, অনেকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছি এবং সেতু নির্মাণের ব্যাপারে সকলের কাছে নির্ভরযোগ্য আশ্বাস পেয়েছি আশা করছি শীঘ্রই বরাদ্দ পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া জানান, এই স্থানে সেতু নির্মাণের কারিগরি সমীক্ষা চলছে। সমীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই এখানে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম নাসরিন জাহান রত্না জানান, সেতু নির্মাণ বাস্তবায়নের জন্য দাফতরিক ভাবে আমরা অনেকদুর এগিয়েছি। আশাকরি সার্বিক সমীক্ষা শেষে সরকারী বরাদ্দ এলেই সেতু নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করতে পারব।

ইত্তেফাক/ইআ