পাখি : চড়ুই

 

আমাদের সবার পরিচিত পাখি। ‘গৃহস্থালির চড়ুই’ হিসেবেও সুপরিচিত। এরা দৈর্ঘ্যে ১৬ সেন্টিমিটার এবং ওজনে ২৪ থেকে ৩৯.৫ গ্রাম। এরা জনবসতির মধ্যে থাকতে ভালোবাসে। পৃথিবীতে মোট ৪৮ প্রজাতির চড়ুই দেখতে পাওয়া যায়। এদের আদি নিবাস ছিল মূলত ইউরেশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ।

চড়ুই চঞ্চল প্রকৃতির পাখি। প্রায় ১০ হাজার বছর আগে চড়ুই মানুষের সান্নিধ্যে আসে। আমাদের ঘরবাড়ি, আশপাশের ভাঙা দালান এবং বড় ও বুড়ো গাছের গর্তে এরা বাসা বাঁধে। চড়ুই বছরে একাধিকবার প্রজনন করে। প্রতিবারে ৪ থেকে ৬টি করে ডিম দেয়। এদের ছানা বাঁচে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ।

গত কয়েক দশক থেকে চড়ুইয়ের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। ১৯৮০ সাল নাগাদ পৃথিবীর বৃহদাংশজুড়ে হ্রাস পেয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ। শুধু লন্ডন শহরেই ১৯৯৪ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে সংখ্যা হ্রাসের হার ৭০ ভাগ।  চড়ুইয়ের সংখ্যা হ্রাসের অন্যতম কারণ হলো নিয়ন্ত্রণহীন রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার। ক্ষতিকর পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে ব্যবহার করা হয় যথেচ্ছ কীটনাশক। আর চড়ুই প্রধানত শস্যদানা, ঘাসের বিচির পাশাপাশি পোকামাকড় খেয়ে থাকে। কিন্তু ফসলের খেতে কীটনাশক ছিটানোর কারণে এসব খাবার খেয়ে তারা বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যদিও গ্রামের দিকে চড়ুইয়ের দেখা মেলে, কিন্তু  শহরাঞ্চলে সে দৃশ্য প্রায় বিরল। এর জন্য দায়ী ক্রমবর্ধমান মোবাইল টাওয়ার। টাওয়ার থেকে নির্গত ক্রমাগত বিকিরণের জেরেই দ্রুত হারে কমে যাচ্ছে এই পাখিটি।

কয়েক দশক আগেও ঢাকা শহরে বাড়ির উঠান, ঘরের কোণে, বারান্দায় চড়ুইয়ের উপস্থিতি ছিল খুবই স্বাভাবিক। চড়ুইয়ের ডাকে শুরু হতো সকাল। আর সন্ধ্যায় চড়ুইয়ের ডাকে আমরা বুঝতাম মাঠ থেকে বাড়ি ফিরতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রকৃতি থেকে আর কোনো চড়ুইয়ের বিলুপ্তি নয়। আমাদের বাসাবাড়ির বারান্দায় যদি চড়ুইয়ের বাস উপযোগী করে দু-একটি ছোট বাক্স বেঁধে রাখি—তাহলে বিলুপ্তির হাত থেকে যেমন চড়ুই বাঁচবে, তেমনি বাড়ির শিশুরাও পাবে আনন্দ।

মাজহারুল ইসলাম শামীম