ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিলের ভূত ছাড়াবে কে?

করোনাকালে জনসাধারণের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বিদ্যুত্ বিভাগ কয়েকমাসের বিদ্যুিবল জমে গেলেও তার জরিমানা মওকুফ করার ঘোষণা দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গ্রাহকদের শুধু বকেয়া বিল পরিশোধ করলেই হবে, এমন সুবিধা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল। কিন্তু তাদের এ প্রশংসনীয় উদ্যোগ ম্লান হয়ে যায় ভূতুড়ে বিদ্যুিবলের কারণে। স্বাভাবিক সময়ে যতটুকু বিল আসত, জমে থাকা বিল হিসেব করে দেখা যায় তার চেয়ে ঢের বেশি বিল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকাসহ সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোতে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন মহল থেকে সমাধানের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত উপযুক্ত সমাধানের মুখ দেখা যায় না। মিটার রিডিং এবং বিদ্যুিবলের প্রদত্ত রিডিংয়ে বিস্তর হেরফের লক্ষ করা যায়। মিটার রিডাররা গ্রাহকদের মিটারের রিডিং না দেখেই ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে বিল তৈরি করেন। ফলে গ্রাহকদের গুনতে হয় অতিরিক্ত খরচ। এ অতিরিক্ত বিলের বোঝা অনেক ভাড়াটিয়াই নিতে অস্বীকৃতি জানান, ফলে বাড়ির মালিকদের পড়তে হয় বিপাকে। বিদ্যুত্ অফিসে বারংবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায় না কোনো সমাধান। এই ভুতুড়ে বিলের তাণ্ডব যে শুধু শহরাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ তা নয়, গ্রাম বা মফস্সল সব এলাকাতেই এটা লক্ষণীয়। উদাহরণস্বরূপ, কুমিল­া সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের একজন ভাড়াটিয়ার সেপ্টেম্বর মাসের প্রদত্ত বিদ্যুিবলে ১৫-৯-২১ তারিখের মিটার রিডিং লেখা ১৩২৯৮ ইউনিট। অথচ ২০-১০-২০২১ তারিখে এই লেখাটি লেখার আগ পর্যন্ত ঐ ভাড়াটিয়ার মিটার রিডিংয়ে দেখা যায় ইউনিট এসেছে ১৩১৬১! ইউনিট রিডিংয়ে মিটার রিডারদের অবহেলা দিনকে দিন চরমে উঠেছে। মড়ার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ ধরনের ভুতুড়ে বিদ্যুিবল। এই ভূত যত দ্রুত সম্ভব, ছাড়াতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।

শাহরিয়ার এম সোহান

বাসিন্দা, ১নং ওয়ার্ড, কুমিল­া সিটি কর্পোরেশন