মাছ ও মুরগির খামার তলিয়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে খামারিরা

পানি কমায় মানুষ বাড়ি ফিরছে

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

রংপুরের তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ায় জেলার গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার বাঁধ, উঁচু ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া বন্যাদুর্গত মানুষরা নিজ নিজ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। এদিকে পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া রংপুর-লালমনিরহাট সংযোগ (কাকিনা-মহিপুর) সড়ক এখনো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

গতকাল শনিবার লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় ডালিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপত্সীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে কাউনিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ কমে সামান্য ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার এনামুর রহমান গতকাল শুক্রবার রংপুর অঞ্চলের বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলার বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য নগদ ২০ লাখ টাকা এবং ৫০ মেট্রিক টন চাল মানবিক সহায়তা হিসেবে বরাদ্দের ঘোষণা দেন। এছাড়া ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার (প্রতি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি করে ডাল, চিনি ও লবণ রয়েছে) এবং প্রাণী ও শিশুখাদ্যের জন্য আরো ২ লাখ টাকা বরাদ্দ করেন। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মোহসীন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন দিন রাত চেষ্টা চালিয়ে ভেঙে যাওয়া রাস্তায় বালুর ব্যাগ ফেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

গত কয়দিন ধরে উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে আকস্মিকভাবে পানিপ্রবাহ বেড়ে যায়। ভারতের গজোল ডোবা ব্যারাজের সব কটি গেট খুলে দেওয়ায় এই অকাল বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে তিস্তা পাড়ের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানির তীব্র সে াতে নয়া মিয়া নামে একজন ভেসে গেছেন। নিজের গরু বাঁচাতে গিয়ে তিনি পানিতে ভেসে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেছেনে, কৃষক নয়া মিয়া ঘরসহ পানির তোড়ে ভেসে গেছেন। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অসময়ে আকস্মিক বন্যায় রংপুরের তিন উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধানসহ শীতকালীন সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে মাছের ঘের ও মুরগির খামার। এসব এলাকার গবাদি প্রাণী নিয়ে স্থানীয়রা পড়েছেন চরম বিপাকে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়ায় দু-একদিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিস্তার পানি প্রবাহ বুধবারের চেয়ে নিম্নমুখী; যা গত বুধবার তিস্তা ব্যারেজে বিপত্সীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল শুক্রবার লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় ডালিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপত্সীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে কাউনিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ কমে সামান্য ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার শংকরদাহ, চর ইছালী, বাগেরহাট, মহিপুর ও আলমবিদিতর ইউনিয়নের নিম্ন অঞ্চল এবং কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। ফসলি জমিসহ ঘরবাড়িতে পানি রয়েছে। পরিবারগুলোর পানিবন্দি দশা এখনো মুক্ত হয়নি। গোবাদি প্রাণীর খাদ্য নিয়ে বিপাকে রয়েছেন মালিকরা। মাছ ও মুরগির খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খামারিরা প্রচুর লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে। কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর পানি বৃহস্পতিবার রাত থেকে কমতে শুরু করায় শুক্রবার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। দ্বীপচর তবে ঢুষমারা চরের মানুষেরা এখনো নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেনি। উঁচু স্থানে ও বাঁধের রাস্তায় তারা আশ্রয় নিয়েছে। মানুষের ও গোখাদ্যর সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে বন্যা দুর্গত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়েনের ঢুষমারা চর এলাকায় ১০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।