সম্প্রতি কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে স্পর্শকাতর ছিল কুমিল্লার নানুয়াদীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন অবমাননার ঘটনা। এ নিয়ে সেখানে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনার ভিডিও ক্লিপিংকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অ্যাভিডেন্স (সাক্ষ্য) হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই স্পর্শকাতর এই মামলার বিচার দ্রুতই শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। প্রসঙ্গত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলা বিচারের জন্য স্থানান্তর হলে আইনানুযায়ী তা ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলে আরো ৩০ দিন সময় নিতে পারবে ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে নানা প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী। সেখানে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হামলার ঘটনার বিচার শুরু না হওয়াসহ নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, কুমিল্লায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার মামলার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। পুলিশ যখন মামলার চার্জশিট দাখিল করবে তখনই মামলাটি বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, আমার যতদূর জানা আছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের যে ঘটনা সেটার তদন্ত বোধহয় এখনো শেষ হয়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত শেষ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত কিন্তু ঐ মামলায় আদালতের বিচারিক এক্তিয়ারে নেওয়া হয় না। একটা মামলা হলে হয়তো অনেকগুলো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের থাকে, কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশ প্রতিবেদন (চার্জশিট) বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসে ততক্ষণ বিচার কাজ শুরু করতে পারে না আদালত।
আইনমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় ভিডিও ক্লিপিং পাওয়া গেছে। ঐ ভিডিও ক্লিপিংকে মামলায় অ্যাভিডেন্স (সাক্ষ্য) হিসেবে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। আইনের সেই ক্ষমতাবলে ঐ ক্লিপিংকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে কুমিল্লার ঘটনার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করতে কোনো অসুবিধা নাই। তিনি বলেন, আমরা ঐ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছি। সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, যে মুহূর্তে তদন্ত শেষ হয়ে চার্জশিট বিচারিক আদালতে আসবে তখন এর বিচার দ্রুত শেষ করা হবে।