দ্বিতীয় পর্ব
॥ এক ॥
নাড়ির টানে দেশে ফেরা
সবুজ গাছগাছালি ছুটছে পেছনের দিকে, মনোরম ধানখেত আর ডোবা-পুকুর, খালবিলও ছুটছে পেছনে, ছুটন্ত ট্রেনের ঝিকঝাক ঝিকঝাক ছন্দময় তালের তলে হারিয়ে যাচ্ছে দরিরামপুরের পাখপাখালির কলরোল। জানালা দিয়ে বাইরে তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে কেমন করে উঠল দুখুর মন। ঢেউ উঠল বুকের ভেতর। চোখ বেয়ে নেমে এলো কয়েক ফোঁটা জল। ত্রিশালের কঠিন জীবনসংসারে তবে কি মায়ার শেকড় গেড়ে বসেছিল! বুক ফেটে কান্না বেরোচ্ছে কেন? কার জন্য কাঁদছে! অবহেলা আর অনাদরে কাটানো প্রায় এক বছরের দরিরামপুর কী মমতায়, কী লজ্জায় জড়িয়েছিল তাকে―বুঝতে পারছে না সে।
জল গড়িয়ে চোখ শুকিয়ে গেল। বুঝল সবুজ আর সবুজের সোনাঝরা গ্রাম তাকে বেঁধেছিল, প্রাণের ওপর ছড়িয়ে দিয়েছিল কোমল প্রাণের আলো। সেই আলো ম্লান হচ্ছে না। সবকিছু পেছনে হটিয়ে সামনে এগোতে থাকলেও আরও বেশি বেশি আলোয় নেচে উঠছে মন। সবুজ প্রকৃতি তাকে ডাকছে... কানে কানে বলছে, কোথায় যাচ্ছ হে গানের পাখি! আমাদের ছেড়ে কোথায় পালাচ্ছ!
জানালা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল দুখু। শূন্যচোখে তাকাল সামনে। ট্রেনের লম্বা বগির ভেতর চোখ আছড়ে পড়লেও চোখের ভেতর ভেসে উঠল আরেক ছবি―পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার লৌহ-ইস্পাতের কারখানা, কয়লাখনি, বিস্তীর্ণ জলাধার, বন্যা প্রতিরোধের বাঁধ, মাইথন আর চুরুলিয়ার উত্তরের অজয় নদ, বিশাল বালুচর, কাশবন, সৈকতভূমি। সব ছাপিয়ে এবার চোখের ছায়ায় ভেসে উঠল মাটির প্রাচীরঘেরা ছনের ছাউনির ঘরখানি। রাজা নরোত্তম সিংহের গড় আর পিরপুকুরের পাশের এ দরিদ্র ঘরে এগারোই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সনে জন্ম নিয়েছিল দুখু, বলেছিলেন তাঁর মা। আজ আবার ছুটছে সে নাড়ির টানে। শিশুকালের মায়াবী সংসারের মায়ার বাঁধন টলে উঠল। মায়ের মমতার দোলনা দুলতে লাগল, ছোটো বোন কুলসুমের কথা মনে পড়তে লাগল। আর ছোটো ভাই আলী হোসেনের কথাও ট্রেনের দুলুনির মধ্যে দোলাতে লাগল মায়ার দোলনা। এই দোলনার দড়িতে অসংখ্য গিঁট রয়েছে। কী সেই গিঁট! একটা গিঁট খুলে গেল চোখের সামনে―কল্পচোখে দেখল বই আর বই! বাঁশি আর বাঁশি। বই আর বাঁশি কেন ভেসে উঠছে চোখের পর্দায়। পড়তে হবে, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে? গাইতে হবে? বাঁশি বাজাতে হবে? এজন্য কি চোখে ভাসছে বই আর বাঁশি! তার মনে নড়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর সঙ্গে মিশে গেল নিজের আকাঙ্ক্ষা, উৎসাহ আর গোপন তাড়না―পড়াশোনার দুর্নিবার ইচ্ছার বড়শিতে আটকে যাওয়া মনের অলিগলি ঘুরে ঠিক করল সময় অপচয় করা যাবে না। চুরুলিয়ায় ফিরেই যে কোনো উপায়ে স্কুলে ভর্তি হয়ে যাবে। কল্পচোখ থেকে বাস্তব সময়ে ফিরে এসে দেখল সামনে বসা এক যাত্রী পেয়ারা খাচ্ছে। লোকটার আধাপাকা পেয়ারা খাওয়ার ভঙ্গিটা লোভনীয়। পেটের খিদে উসকে উঠল। ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর থেকে রাতের ট্রেনে কাউকে না জানিয়ে পকেটের অবস্থার কথা না ভেবে, বালিশের তলা, বিছানার কোণ, বইয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা কয়েকটি টাকা হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রেলের টিকিট কাটতে পেরেছিল কেবল। এখনো পকেট শূন্য। এখনো আসানসোলে পৌঁছাতে অনেক বাকি। শূন্য পকেট কীভাবে পেটের ক্ষুধা মেটাবে! টাকার কথা ভাবার ফাঁকে খিদের অগ্নিশিখা ধীরে ধীরে বেড়ে যেতে লাগল। পেট মোচড় দিয়ে উঠল। একইসঙ্গে তার চোখ বারবার চলে যাচ্ছিল পেয়ারার দিকে।
লোকটি খেয়াল করল দুখুর চোখের ভাষা। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে হাত ঢুকিয়ে একটা পেয়ারা বের করে তিনি বললেন, ‘খাবে?’
আচমকা চমকে উঠল দুখু। ‘না না। থাক।’ বলেই মাথাটা ঘুরিয়ে জানালা দিয়ে তাকাল বাইরের দিকে।
‘না’ ‘না’ করে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলেও, চোখে ভেসে ওঠা পেটের খিদে লুকাতে পারল না দুখু। বয়স্ক লোকটি বললেন, ‘না বললে হবে? তোমার শুকনো মুখ আর চোখ বলছে পেটে খিদের আগুন জ্বলছে। নাও। খাও। খিদে কমাও। পেটের খিদে মানুষ আর প্রাণীদের বড়ো শত্রু। এর জন্য নাশ হতে পারে জীবন। নাও। খাও।’
দুখুর ‘না’ বলার শক্তি কতটুকু জানা ছিল না নিজেরই। ভেতর থেকে জেগে উঠল প্রতিরোধ। সেই শক্তির তলে চাপা পড়ে গেল খিদের আগুন-ঢেউ। হাসিমুখে বলল, ‘এমনি এমনি অপরের দেওয়া খাবার আমি খাই না।’
লোকটি দমে গেলেন। হাতে নেওয়া পেয়ারাটা ব্যাগে চালান করে দিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন দুখুর দিকে।
কতক্ষণ আর বাইরে তাকিয়ে থাকা যায়। এ ফাঁকে আবার মোচড় দিয়ে উঠল ক্ষুধার ঢেউ। তখনই ভাবল পেয়ারাটা নিলে কী এমন অসুবিধা হতো! ক্ষুধার কাছে মানসম্মান কী! ভেতরের বাঁধ ভেঙে যেতে লাগল। আবার মুখে ভেসে উঠল পেট জ্বালার আর্তনাদ, ঢেউ। লোকটা আবার তাকাল দুখুর দিকে। অভিজ্ঞতার আলোয় বুঝে গেলেন ওর পেটের খবর। দুম করে তার মনে প্রশ্ন এলো―ছেলেটি কি ঘর পালিয়ে বেরিয়ে পড়েছে অচেনা পথে! তেড়ে ওঠা ভাবনাটা দমিয়ে ফেললেন। এ ছেলেকে প্রশ্ন করা বোকামি হবে ভেবে কথা না বলে চোখ বুজে রইলেন।
ট্রেন চলছে। দুলুনি হচ্ছে। সাদা ধোঁয়া ছুটে যাচ্ছে পেছনে। ইঞ্জিনের বিকট আওয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে কয়লার ইঞ্জিনের ভেতর থেকে। কয়লা পুড়ছে, ধোঁয়া কালো হওয়ার কথা। অথচ ধোঁয়ার রং সাদা। কেন? সাদা কেন? মাথায় আসা প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে ভাবতে চোখ বুজে গুনগুন করে দুখু গাইতে লাগল নিজের লেখা পঙ্ক্তি :
মেরা দিলো্ বেতার কিয়া তেরি আব্রুয়ে কামান;
জ্বলা যাতা হ্যায় ইশ্ক্ মে জান পেরেশান।
হেরে তোমার ধ্বনি
চন্দ্র কলঙ্কিনী
মরি কী যে বদনের শোভা, মাতোয়ারা প্রাণ।
বুলবুল করতে এসেছে তাই মধু পান॥
চলমান ট্রেনের ঝিকঝিক ঝা... ঝিকঝিক ঝা... শব্দ ছাপিয়ে দুখুর আওড়ে যাওয়া পঙ্ক্তি কানের পর্দায় মধুর ঝংকার তুলল সামনের যাত্রীর। চোখ খুলে বিস্ময়ে তিনি তাকিয়ে রইলেন দুখুর চোখের দিকে। আবৃত্তি শেষে চোখ খুলে হঠাৎ ভয় পেয়ে গেল দুখু। লোকটাকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মনে প্রশ্নের উদয় হলো―লোকটির উদ্দেশ্য কী? এমন করে তাকিয়ে আছেন কেন? খারাপ লোক? বিপজ্জনক কেউ?
লোকটি আবার ব্যাগের ভেতর হাত ঢোকালেন। এবার একটু হলুদ পাকা পেয়ারা বেরিয়ে এলো। হাত বাড়িয়ে দুখুর উদ্দেশে বললেন, ‘এবার তোমাকে নিতেই হবে পেয়ারাটা। খেতে হবে।’
আবার নড়েচড়ে বসল দুখু। পেয়ারার দিকে হাত না বাড়িয়ে সিটের দিকে সেঁটে রাখল পিঠ।
‘এমনি এমনি অপরের দেওয়া খাবার আমি খাই না, বলেছিলে তুমি।’
ঢোক গিলে দুখু জবাব দিলো, ‘জি।’
‘এবার এমনি এমনি না। তোমার প্রাণকাড়া আবৃত্তিতে খুশি হয়েছি। এটা সেই খুশির উপহার। এবার নিশ্চয় ফিরিয়ে দেবে না।’
পাকা পেয়ারার গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। নাকে ঢুকছে সে গন্ধ। গন্ধের ঢেউ ক্ষুধার জ্বালা আরও বাড়িয়ে তুলল।
লোকটি আগবাড়িয়ে সামনে ঝুঁকে বলল, ‘নাও। খাও। তোমার খিদে পেয়েছে।’
এবার হাত বাড়াল দুখু। পেয়ারাটা হাতে নিয়ে বসে রইল।
লোকটি আবার প্রশ্ন করল, ‘কার কবিতা আওড়ালে তুমি।’
কিছুটা লাজুক ভঙ্গিতে বলল, ‘নিজের লেখা।’
‘নিজের! তোমার নিজের লেখা!’
‘জি!’
‘অসাধারণ! অসাধারণ!’ উল্লাস প্রকাশ করে আবার বললেন, ‘তো এত গুণী ছেলে, কোথায় যাচ্ছ একা একা? ঘর পালিয়েছ?’
‘আসানসোল যাব।’ ছোট্ট জবাব দিয়ে বাকি প্রশ্ন এড়িয়ে গেল দুখু।
‘দেখো, আমি একজন শিক্ষক। তোমার মুখ দেখে বুঝতে পারছি, ঘর পালিয়েছ তুমি।’
‘না। ঘর পালাইনি। ঘরে ফিরে যাচ্ছি। আমার বাড়ি বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে।’ শিক্ষক পরিচয়ে সহজ হয়ে গেছে দুখু। একজন শিক্ষকের সামনে যেভাবে আদব নিয়ে কথা বলা দরকার সেভাবেই কথা বলছে এখন। সেভাবেই উত্তর দিচ্ছে।
‘তো, ময়মনসিংহ এসেছিলে কেন?’
‘পড়াশোনার জন্য।’
‘ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছ?’
‘না। একেবারে দেশে ফিরে যাচ্ছি।’
শিক্ষক আর প্রশ্ন না বাড়িয়ে বললেন, ‘পেয়ারাটা খাও। তোমাকে দেখে বেশ ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে।’
বাধ্য ছেলের মতো কথাটা শুনল এবার। পেয়ারায় কামড় বসিয়ে সে তাকাল শিক্ষকের দিকে।
তিনি মাথা ঝাঁকালেন।
খেতে লাগল দুখু। ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় বুক শুকিয়ে গিয়েছিল। আদর না পেয়ে বড়ো হতে থাকা দুখুর বুকটা এখন মমতার পরশ পেয়ে কেঁদে উঠল। কেন কেঁদে উঠছে বুঝতে পারছে না। জলে ভরে উঠল চোখ। বাইরের দিকে তাকিয়ে আড়াল করতে চাইল অশ্রু। আড়ালে থাকল না চোখের জল। গাল বেয়ে কয়েক ফোঁটা গড়িয়ে পড়ল। তা দেখে ফেললেন সহযাত্রী শিক্ষক। হতবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন তার দিকে।
দুখু এখন বেশ সহজ। তার চোখের তারা চিকচিক করছে। মুখে লাবণ্য ঝলসে উঠছে। কৃতজ্ঞতার চিহ্ন ভেসে উঠেছে দেহভঙ্গিমায়। তা দেখে শিক্ষক প্রশ্ন করলেন, ‘ময়মনসিংহে পড়াশোনা করতে?’
‘জি না। ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুল থেকে ক্লাস সেভেনের বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে এলাম।’
‘বাঃ। বেশ ভালো। তা চুরুলিয়া থেকে কেন এতদূরে আসতে হলো? পড়াশোনার জন্য বর্ধমান জেলায় তো অনেক স্কুল ছিল!’
‘ছিল। অভাবের কারণে পড়তে পারছিলাম না। এক দারোগা বাবুর সাহায্যে সেখানে পড়তে গিয়েছিলাম।’
‘তোমার দেখছি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বেশ আগ্রহ রয়েছে।’
‘জি। খু-উ-ব।’
‘আবার ত্রিশালে ফিরে আসবে?’
‘না। আর সেখানে ফিরে যাব না। যাওয়ার ইচ্ছা নেই।’
‘কেন ইচ্ছা নেই? পড়াশোনা চালাতে হবে না? কেন ফিরে যাবে না?’
‘জি। চালাতে হবে। নিজেদের জেলায় পড়ার সুযোগ পেলে সেখানেই পড়ার ইচ্ছা আছে।’ ‘কেন ইচ্ছা নেই’? ‘কেন ফিরে যাবে না’? প্রশ্ন দুটি কৌশলে এড়িয়ে গেল দুখু। মেপে মেপে কথা বলছে সে।
‘দেখো তো, তোমার নামটি জানা হলো না।’
‘আমার মা ‘দুখু’ নামে ডাকেন। এ নামেই পরিচিত আমি। তবে ‘নুরু’ নামেও পরিচিতি আছে। মা কখনো নুরু নামে ডাকেন। আমার বন্ধুরাও নুরু নামে ডাকতে পছন্দ করে। তবে আমার আসল নাম কাজী নজরুল ইসলাম। ছোটোবেলায় আমাকে ‘তারা খ্যাপা’ নামে ডাকা হতো।’
‘বেশ নাম। তুমি কি কাজী পরিবারের সন্তান?’
‘জি। চুরুলিয়ার কাজী পরিবার।’
‘বেশ। বেশ। তা আমি তোমাকে নুরু বা নজরুল বলে ডাকতে চাই। দুখু নামে ডাকতে চাই না। দুখু নামের সঙ্গে কেমন যেন কষ্টের একটা ছায়া আছে।’
‘জি স্যার। কষ্টেই কাটছে দিন। কষ্টই আমার সারাক্ষণের সাথী। কষ্টের কথা আর কী বলব, স্যার?’
কথার ধরন দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন শিক্ষক। ‘স্যার’ সম্বোধনটাও শিক্ষক সত্তার ভেতর থেকে মায়ার চাকে খোঁচা দিলো। আরও মায়াবী স্বর বেরোল এবার তাঁর মুখ থেকে :
‘বর্ধমান শহরে মেহেদিবাগানে Albert Victor Institution নামে একটা স্কুল আছে। ‘নিউ স্কুল’ নামেই এর পরিচিতি রয়েছে। সেখানকার প্রধান শিক্ষক নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় আমার পরিচিত। ইচ্ছা করলে সেখানে ভর্তির চেষ্টা করতে পারো। আমার দুই কলম লেখা নিয়ে যেতে পারো। দরিদ্র আর মেধাবী ছাত্রদের জন্য সেখানে বৃত্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।’
কথার ভেতর স্নেহশীল পরোপকারী শিক্ষকের কোমল মন টের পেয়ে গেল দুখু। তার চোখ আরও বেশি উজ্জ্বল আর চিকচিক করে উঠল। উজ্জ্বল চোখের ভেতর অসাধারণ প্রতিভার আলো দেখে ফেললেন শিক্ষক। তিনি যেন বাবার ভূমিকা পালন করছেন। ছন্নছাড়া দুখুর পাশে দাঁড়ালেন নিঃস্বার্থভাবে। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের ভেতর থেকে একটা কাগজ আর কলম বের করে দুলতে থাকা ট্রেনের বগিতে বসে কী যেন লিখলেন। কাগজটি দুখুর দিকে বাড়িয়ে বললেন, ‘নাও। এটা ধরো। নগেন্দ্রবাবুকে দিয়ো। আশা করি, তোমার একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’
চলবে...