পর্যটননির্ভর এশিয়ার দেশগুলো চায় আগের মতো বিপুল সংখ্যক বিদেশি আসা শুরু করুক। কিন্তু অবস্থা এখনো আগের মতো হয়নি। থ্যাইল্যান্ডের মতো দেশ যাদের রাজস্ব আয়ের এক-পঞ্চমাংশ পর্যটন থেকে আসে, তারাও দরজা পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিতে ইতস্তত করছে। দেশটির ৬০ শতাংশ মনে করে ১ নভেম্বর থেকে পর্যটক আসা শুরু করলেও তা বেশ আগে হয়ে যাবে। ২১ অক্টোবর প্রায়ুথ চান ওচা বলেন, ৪৬টি দেশের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করছে থাইল্যান্ড। এ দেশগুলোর অর্ধেকই ইউরোপীয়। ফেসবুকে তিনি লেখেন, আমরা যদি সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করি, তাহলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। ততদিনে পর্যটকরা অন্য দেশে যেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে।
এম এ আলআমিন
করোনার আঘাতে স্থবির হয়ে পড়েছিল বিশ্ব অর্থনীতি। অর্থনীতির প্রায় সবগুলো খাত বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের অন্যতম ছিল পর্যটন। মহামারির প্রকোপ কমে আসায় এখন দেশে দেশে খুলে দেওয়া হচ্ছে এই খাতটি। পর্যটন নির্ভর অর্থনীতিগুলো সতর্কতার সঙ্গে একটু একটু করে সচল করছে পর্যটন। চলতি মাসে ভারতসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ এক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে।
ভারত ৭ অক্টোবর ঘোষণা করে ১৫ নভেম্বর থেকে বিদেশি পর্যটকদের ভিসা দেওয়া শুরু হবে। এর দুদিন পর সিঙ্গাপুর কোয়ারেন্টাইনমুক্ত পর্যটনের কথা জানায়। এর আগে জার্মানি ও ব্রুনেই পর্যটকদের কোয়ারেন্টাইনের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেয়। এর দুই দিন পর ১১ অক্টোবর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রাইয়ুথ চান ওচা ঘোষণা করেন, পূর্ণ ভ্যাকসিন নেওয়া পর্যটকরা ১ নভেম্বর থেকে তার দেশ সফর করতে পারবে। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন দ্বীপ বালিতে ১৪ অক্টোবর থেকে বিদেশিদের আসা শুরু হয়েছে। বালি ছাড়া আরো কয়েকটি ইন্দোনেশীয় দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
মালয়শিয়া ডিসেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। গত বছর গোড়ার দিকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর যে দেশগুলো বিদেশি আগমনের ওপর কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করে তাদের অন্যতম ছিল অস্ট্রেলিয়া। এ বছর এপ্রিলে এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বন্দ্বও হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার। সেই অস্ট্রেলিয়াও পর্যটকদের দরজা খুলতে শুরু করেছে। আগামী মাস থেকে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের অংশবিশেষ বাইরে থেকে কাজের জন্য আসা ব্যক্তিদের খুলে দেওয়া হচ্ছে। শর্ত থাকবে বহিরাগত বিদেশিদের পুরোপুরি ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডোমেনিক পেরোটেট সম্প্রতি এ কথা জানিয়েছেন। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন পেরোটেটের বক্তব্য স্পষ্ট করে বলেছেন, এই নিয়ম আপাতত বিদেশে অবস্থানরত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ও তাদের স্বজনদের বেলায় প্রযোজ্য হবে।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশ এখন পর্যন্ত আংশিক ও শর্ত সাপেক্ষে পর্যটন খাত উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে। যেমন থাইল্যান্ড ১৯টি দেশ বা অঞ্চল ঠিক করে দিয়েছে। এদের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরও অনেকটা সে পথে হেঁটেছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর বিদেশি পর্যটক আসার জন্য বিমান পরিবহনও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
এখানে উল্লেখ করা যায়, এশিয়ার অনেক দেশ রাজস্ব আয়ের জন্য পর্যটন শিল্পের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ ফিজির কথাই যদি বলি, দেশটির মোট রাজস্ব আয়ের (২০১৯ করোনার আগের বছরের হিসাব) অর্ধেক এসেছে পর্যটন খাত থেকে। পাশাপাশি কয়েক দেশের এই খাত থেকে আয়ের তুলনা দেওয়া যায়। যেমন-থাইল্যান্ডের রাজস্ব আয়ের এক পঞ্চমাংশ, মালয়েশিয়ার এক দশমাংশ, ভারতের ৬ শতাংশ এবং সিঙ্গাপুরে এর চেয়ে কিছু কম পরিমাণ এই খাত থেকে আসে। এই দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থা কিছুটা ব্যতিক্রমী বলেই মনে হয়। ভারত প্রায় ঢালাওভাবে সব বিদেশি পর্যটকের জন্য ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেশির ভাগ দেশেই এখনো সতর্কতামূলক অবস্থানে আছে। কারণ অর্থনীতির এ খাত দীর্ঘ সময় স্থবির হয়ে থাকলে একে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। শীত মৌসুম সামনে রেখে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে তৈরি এসব দেশ।
পর্যটননির্ভর এশিয়ার দেশগুলো চায় আগের মতো বিপুল সংখ্যক বিদেশি আসা শুরু করুক। কিন্তু অবস্থা এখনো আগের মতো হয়নি। থ্যাইল্যান্ডের মতো দেশ যাদের রাজস্ব আয়ের এক পঞ্চমাংশ পর্যটন থেকে আসে, তারাও দরজা পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিতে ইতস্তত করছে। দেশটির ৬০ শতাংশ মনে করে ১ নভেম্বর থেকে পর্যটক আসা শুরু করলেও তা বেশ আগে হয়ে যাবে। ২১ অক্টোবর প্রায়ুথ চান ওচা বলেন, ৪৬টি দেশের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করছে থাইল্যান্ড। এ দেশগুলোর অর্ধেকই ইউরোপীয়। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমরা যদি সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করি, তাহলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। ততদিনে পর্যটকরা অন্য দেশে যেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে।’
পর্যায় ক্রমিক দুয়ার খোলার প্রক্রিয়া স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বিদেশিদের সমম্বয়ের বিষয়টি যেমন সহজ হবে তেমনি বিভিন্ন দেশের ব্যবসার মধ্যে খাপ খাওয়াতেও সুবিধা হবে। সরকারি পর্যায়েও পদক্ষেপ গ্রহণ সহজসাধ্য হবে। কারণ করোনা ভাইরাস এখনো একটি হুমকি হিসাবে রয়ে গেছে। ব্যাংকক ভিত্তিক পর্যটন সংস্থা প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা লিজ ওর্তিগুয়েরা বলেন, ‘ইউরোপীয় পর্যটকরা এশীয়দের তুলনায় বেশি সময় অবস্থান করে, খরচও বেশি করে; তাই তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া পর্যটননির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটির ইউএস-এশিয়া সেন্টার ফর টুরিজমের গবেষক জিয়াং ররার্ট লি বলছেন, ২০০২-০৩ সালের দিকে সার্স ভাইরাসের সময় পর্যটন খাত যেভাবে খুলেছিল এবারও অনেকটা সেভাবে উন্মুক্ত হবে। প্রথমে অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্য খুলবে তারপর আঞ্চলিক এরপর আন্তর্জাতিক পর্যটদের জন্য।