গ্যালারি-প্রেসবক্স সর্বত্রই ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’

স্পোর্টস রিপোর্টার, শারজাহ থেকে

ক্রিকেটীয় বহু রোমাঞ্চের ধারক সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। চেতন শর্মাকে মারা ‘বড়ে মিয়া’ খ্যাত পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদের ছক্কা, শচীন টেন্ডুলকারের দুরন্ত সেঞ্চুরি সবই শারজাহর অতীত ঐতিহ্যের অংশ। ছবি, টিভি পর্দায় দেখা অতীতের মতোই শারজাহ রঙে-ঢঙে একই রকম।

দুনিয়ার সর্বত্রই স্টেডিয়ামে সংবাদকর্মীদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা, কর্মক্ষেত্র প্রেসবক্স। শারজাহর প্রেসবক্স ক্ষুদ্রকায়, গ্যালারি লাগোয়া। আসন সংখ্যা ৬০। করোনার কারণে সেই সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে ৩৫ জনে। প্রেসবক্সটা খোলা, মাথার ওপরে ঝুলন্ত ফ্যান। গরমের তাপটা শরীরে অনুভূত হয় শতভাগ। শিরদাঁড়া বেয়ে ঘাম নামতেই থাকে। এর মধ্যে বিশ্বকাপের ম্যাচ কাভার করা ব্যতিক্রমই বটে।

প্রেসবক্সে টিভি একটিই। সরাসরি বল মিস করলে রিপ্লে দেখতে ঐ এক টিভি বা মাঠের ডিজিটাল বোর্ডে তাকাতে হয়। ছোট মাঠ, প্রেসবক্স খোলা বলে গ্যালারির প্রাণের জোয়ার, মাইক্রোফোনের ঘোষণা সবই কর্ণকুহরে প্রবেশ করে বিনা বাধায়।

আসন সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিকই গতকাল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সুপার-১২ ম্যাচ কাভার করার সুযোগ পাননি। বিশ্বকাপের নিমিত্তে এসে ম্যাচের বাইরে থাকা কষ্টদায়ক যে কোনো সাংবাদিকের জন্য।

আইসিসির মিডিয়া ম্যানেজার কেটাকি গোলাত্কার। অন্তর্জাল দুনিয়ার কারণে বিশ্বকাপে যাওয়ার আগেই ভারতীয় এই মহিলার সঙ্গে কিছুটা পরিচয় ছিল। গতকাল শারজাহ স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে ইংরেজিতে আলাপচারিতার মধ্যে নিজে থেকেই বলে উঠলেন, ‘আমিও কিন্তু বাংলা জানি’।

জানতে চেয়েছিলাম, প্রেসবক্সে কতজন শ্রীলঙ্কার সাংবাদিক আছেন? উনি জানালেন, এটুকু বলতে পারি আপনারাই (বাংলাদেশি) বেশি। পরে জানা গেল, জনা দশেক লঙ্কান সাংবাদিক ছিলেন প্রেসবক্সে। শেষান্তে কেটাকি আরো বলেন, শুধু প্রেসবক্স নয়। মাঠের গ্যালারিতে, মাঠের বাইরেও আপনারাই সর্বত্র। শুধু বাংলাদেশ, বাংলাদেশ। কেটাকির কথা একবিন্দুও মিথ্যা নয়। গতকাল ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই শারজাহ স্টেডিয়ামের আশপাশে টাইগার সমর্থকদের ভিড়। বাংলাদেশ দলের জার্সি, জাতীয় পতাকা হাতে হাজারো দর্শক এসেছেন মাঠে।

মাঠের বাইরে কথা হয় শারজাহতে ৯ বছর ধরে থাকা কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার শাহপরানের সঙ্গে। গতকাল এ তরুণ বলছিলেন, ‘আমি এখানে নিয়মিত খেলা দেখি। আর বাংলাদেশের খেলা আজ (গতকাল) মিস করার সুযোগ নেই। আমরা অনেকে এক সঙ্গে এসেছি। গ্যালারিতেও দেখবে বাংলাদেশি বেশি। কারণ আমার চেনা অনেকেই টিকিট কিনেছে, আমি দেখেছি।’

শারজাহতে গতকাল ধারণ ক্ষমতার ৭০ ভাগ দর্শক খেলা উপভোগ করতে পেরেছেন গ্যালারি থেকে। যার মধ্যে ৯০ ভাগই বাংলাদেশি সমর্থক। গতকাল তাদের হর্ষধ্বনিতে মিরপুর স্টেডিয়ামের মতোই ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ ধ্বনিতে কেঁপেছে শারজাহ স্টেডিয়াম। কখনো কখনো ‘মুশফিক-মুশফিক’ কিংবা শ্রীলঙ্কার চেষ্টা বৃথা গেলেই ‘ভুয়া-ভুয়া’ চিত্কারে সরব হন দর্শকরা। পৃথিবীর যে প্রান্তেই খেলুক টাইগাররা, ক্রিকেট পাগল বাঙালি সেখানেই হাজির হয় প্রাণের জোয়ার নিয়ে। প্রতি মুহূর্তে উত্সাহ জোগায় সাকিবদের। মরুর বুকের শারজাহতেও ব্যতিক্রম হয়নি।