আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয়
ককাসের ভার্চুয়াল সভায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
‘আদিবাসী ও সংখ্যালঘু-বিষয়ক সংসদীয় ককাস’ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় বক্তারা বলেছেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাসমূহ গত কয়েক দশক ধরে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক বিভাজনেরই ফল। এসব হামলা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। গতকাল রবিবার আয়োজিত এই সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, একসময় বিএনপি এ ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ক্ষমতায় নিয়ে আশকারা দিয়েছে। এখন আবার সেই শক্তির সঙ্গে আপস চলছে। সেজন্যই তারা সহিংস ঘটনা ঘটানোর এ সাহসগুলো পায়। তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনাসম্পন্ন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারছি না। জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে অসাম্প্রদায়িক চেতনার যুবসমাজ ও রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে হবে। এটা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে অবশ্যই উন্নয়ন হচ্ছে। তবে সংবিধানের মূলনীতির আলোকে উন্নতি করতে হবে। একটি টাস্কফোর্স গঠন করে সহিংসতার শিকার এলাকাগুলো পরিদর্শনের প্রস্তাব করেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত।
ভার্চুয়াল এই সভায় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, ধনী-দরিদ্র সব সংখ্যালঘুর মন ভেঙে গেছে। পেছনে যাওয়ার আর জায়গা নেই। ফলে হিন্দু যুবসমাজের মধ্যে উগ্রবাদ জন্ম হচ্ছে। কিন্তু উগ্রতা দিয়ে উগ্রতাকে থামানো যাবে না। তিনি বলেন, এরশাদের সময়কার সাম্প্রদায়িক হামলা এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সাম্প্রদায়িক হামলার পরে মনে করা হয়েছিল ২০০৮ সালের পরে আর সাম্প্রদায়িক হামলা হবে না। কিন্তু তার পরও দেখা যায়, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হামলা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে হামলা বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সংখ্যালঘুদের আস্থা রাজনৈতিক দলের ওপর নেই। রাজনৈতিক নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন। ভরসা শুধু প্রধানমন্ত্রীর ওপর।
সভায় ককাসের টেকনোক্র্যাট সদস্য ও প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেসবাহ কামাল বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক ব্যর্থতা প্রবল। এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠবে। প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, আমরা শুধু ঘটনার পেছনে ছুটছি। কিন্তু ঘটনার কারণকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, সাংবাদিক প্রণব সাহা, উন্নয়নকর্মী শঙ্কর পাল প্রমুখ।