মা, স্বামী সন্তান নিয়ে
ঢাকায় মার্গারিটা
স্পোর্টস রিপোর্টার
রাশিয়ান স্বর্ণকন্যা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্গারিটা মামুন শনিবার ঢাকায় এসেছেন শুভেচ্ছাদূত হয়ে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সেন্ট্রাল সাউথ এশিয়ান আর্টিস্টিক জিম্যানাস্টিকস শুরু হবে মিরপুরে ইনডোরে। সেই অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হয়ে ২০১৬ রিও অলিম্পিক গেমসে রিদমিক জিম্যানস্টিকস অলঅ্যারাউন্ড ইভেন্টে স্বর্ণপদক জয়ী মার্গারিটা মামুন এসেছেন তার পরিবার নিয়ে। এক পুত্র সন্তান লেবস, রাশিয়ান স্বামী আন্তর্জাতিক সাঁতার পদকপ্রাপ্ত আলেকসান্দার এবং মা এনা মামুন ঢাকায় এসেছেন। মা মেয়ে আগেও এসেছিলেন। বাবা বাংলাদেশের রাজশাহীর ছেলে। মারা গেছেন রিও অলিম্পিক গেমস চলাকালে। যখন মেয়ে স্বর্ণ জিতে আনন্দে ভাসছিলেন। তখনই বাবা হারানোর বেদনায় নীল হন। বাংলাদেশের মানুষ জেনে গিয়েছিল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারী স্বর্ণ জয়ের খবর দিয়েছেন। আনন্দটা তখনও জমাট বেঁধে ছিল। কিন্তু যিনি স্বর্ণ জয় করেছিলেন তার মনটা ভালো ছিল না। তার পরও সেদিন হাসি মুখে কথা বলতে হয়েছিল সবার সঙ্গে।
নিজেও ভাবেননি রিও অলিম্পিকে খেলতে পারবেন। চার বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মার্গারিটা।
১৫ বছর আগেও বাংলাদেশে এসেছিলেন মার্গারিটা মামুন। কিন্তু এবার আসলেন ২০১৬ সালে অলিম্পিক স্বর্ণ জেতার পর। বলছিলেন,‘আমার মা রাশিয়ান বাবা বাংলাদেশের। আমি অর্ধেক বাংলাদেশি অর্ধেক রাশিয়ান।’ তাহলে তো অলিম্পিক স্বর্ণে বাংলাদেশেরও ভাগ আছে। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিটি কথা হাস্যোজ্জ্বল মুখে জবাব দিয়েছেন এই জিমন্যাস্ট। বাবার বাড়ি রাজশাহীতে। রাজশাহীর বিখ্যাত আম, সেখানকার তৈরি সিল্ক জনপ্রিয়। সেটা জানা আছে মার্গারিটার। নিজেই বলেছেন,‘কেউ রাজশাহীতে গেলে বলি আমার জন্য কার্টুন ভরে আম আনবে। রাজশাহীর সিল্ক আমার পছন্দ। ইচ্ছে ছিল বাংলায় কথা বলব হয়ে উঠেনি।’
বাংলা এবং ইংরেজি কোনটাই ভালো দক্ষতা না থাকায় দোভাষীর মাধ্যমে রাশিয়ান ভাষায় কথা বলেন তিনি। জাতিসংঘের নারী দূত হয়ে কাজ করছেন মার্গারিটা। ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের নারী সমাজের উন্নতির জন্য কাজ করবেন। নারী জাতিকে সাহস দেওয়ার কাজটি করতে চান তিনি। নারী খেলোয়াড়দের পোশাক নিয়ে মার্গারিটা বলেন, ‘আমি টোকিও অলিম্পিকেও দেখেছি মিশরের মেয়েদের পোশাক। মুসলিম নারীরা কীভাবে খেলছেন। আসলে পোশাক কোনো ব্যাপার নয়। ধর্ম, পরিবেশ এসব কোনো ব্যাপার নয়। ইচ্ছাটাই আসল।’