কক্সবাজারের দরিয়ানগরে স্কুল, মসজিদ ও চকরিয়ায় জমি দখলের অভিযোগে রাজারবাগ পীরের ভক্ত-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীরা। রবিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ‘দরিয়ানগর বড়ছড়ার বাসিন্দারা। আর দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী অচিতার বিল সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সংগঠন।
মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত এক যুগের বেশি সময় ধরে দরিয়ানগরবাসী রাজারবাগ পীর গ্রুপের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ গ্রুপটি ধর্মকে বিকৃত, উগ্রবাদ, সমাজে গুজব তৈরির মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছে। রাজারবাগীরা গ্রামের মসজিদে প্রতিদিনই কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী, মনগড়া, ধর্মীয় সহিষ্ণুতাবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে যাচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন, এরা দরিয়ানগরে আস্তানা গাড়ার পর এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত গ্রামের জামে মসজিদটিও দখল করে নিজেদের নামে নামকরণ করেছে। সম্প্রতি দরিয়ানগর বড়ছড়া খালের গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় কোটি টাকার সরকারি ?ভূমি জবরদখল করেছে। গ্রামের স্কুল ও মসজিদ দখল করে তাদের মনগড়া মতবাদ ছড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়।
সাংবাদিক ও গবেষক আহমদ গিয়াসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ‘কক্সবাজার সোসাইটি’র সভাপতি কমরেড গিয়াসউদ্দিন, ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’র সাধারণ সম্পাদক নাজিমউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহসীন শেখ, বায়তুন নুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ফরিদুল আলম, বায়তুল মা’মুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আনোয়ার সাকী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ মিঠু, আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইসমাইল, সমাজকর্মী লায়লা বেগম, দরিয়ানগর যুবসমাজের সভাপতি মাহবুব আলম, যুবনেতা মোশাররফ হোসেন পারভেজ এবং ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন ও তার কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে এলাকাবাসী।
এদিকে দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী অচিতার বিল সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জিন্নাত আলী। সংবাদ সম্মেলনে অচিতার বিল সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি ও উপকূলীয় কৃষি সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।