আবরারের মা যেন বলতে পারেন—ছেলে হত্যায় ন্যায়বিচার পেয়েছি

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ২৫ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল রবিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে এ আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো সামান্য বিষয় নয়। ঘটনার আগে আবরার ফাহাদ গ্রামে চলে যান। আসামিরা তার অপেক্ষায় থাকে। বলতে থাকে, আসুক। তিনি হলে এলে তাকে ডেকে নিয়ে কোর্ট বসায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ আর মৃদু আক্রমণ করে। আস্তে আস্তে আক্রমণ জোরালো হয়। তার প্রতি কেন এত রাগ? শেষ পর্যন্ত পিটিয়েই তাকে মেরে ফেলা হলো। তিনি বলেন, আমরা ন্যায়বিচার চাই। জুলুম বা অবিচারের পক্ষে আমরা নই। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। কেউ নিরপরাধ থাকলে আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবে।

মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, হলে যারা থাকেন তারা একে অপরের আপন হয়ে যায়। আবরার তাদেরই আপন একজন ছিল। কিন্তু সেই আপনজনকে মেরে ফেলল। যারা অপরাধ করেছে তারা যেন শাস্তির আওতায় আসে। আমরা তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চাই। আবরারের স্বজনরা এখনো কাঁদছে। তার মা যেন বলতে পারেন, ছেলে হত্যায় ন্যায়বিচার পেয়েছি। এ সময় তাকে সহায়তা করেন ট্রাইব্যুনালের পিপি মো. আবু আব্দুল্লাহ ভুঁইয়া।

এরপর বাদীপক্ষের অপর আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তবে তার বক্তব্য অসমাপ্ত অবস্থায় সোমবার শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করে আদালত। এ দিন কারাগারে থাকা ২২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারের শুরু থেকেই পলাতক আছেন তিন আসামি।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনায় পরের দিন চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।