চার ভ্রমণ কন্যা

তারুণ্যের জয়গান

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

‘বাংলাদেশ একটি অপার সুন্দর ও সম্ভাবনাময় দেশ। এ দেশের নারী জাগরণ ও উন্নয়ন দ্রত হবে বলে আমরা আশাবাদী। সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে কিভাবে দেশ দেখতে হয়, মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়; সেই ব্যাপারে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক, বাল্যবিয়ে, বয়োসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনসহ আত্মরক্ষার বিষয়গুলো নারীদের সামনে তুলে ধরেছি’ কথাগুলো বলছিলেন- স্কুটি নিয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণ করা চার কন্যাদের একজন ডা. সাকিয়া।

তিনি আরো বলেন, ‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে স্কুটিতে চড়ে দেশের আনাচ-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছি আমরা চার নারী। নারী জাগরণ ঘটাতে ও বাংলাদেশ সম্পর্কে শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী মানুষকে ধারণা দিতে প্রতিটি জেলায় যাচ্ছি। ‘ট্রাভেলস অব বাংলাদেশ’ নামের সংগঠনের ব্যানারে আমরা এই ভ্রমণ করছি। সংগঠনের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২৭ হাজার। সাতটি পর্বে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫০ জেলা ভ্রমণ করেছি আমরা। পহেলা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ফিরে এসেছি। বাকি জেলাগুলো দেখতে বের হবো চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলের দিকে। আমাদের টিমে রয়েছেন, ডা. মানসী সাহা, সিলভী রহমান, শামসুন নাহার সুমা ও আমি।  চার কন্যারা তাদের দেশ ঘোরার মাঝে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন, বয়োসন্ধিকালীন সমস্যা সমাধান, খাদ্য ও পুষ্টি সুরক্ষার কৌশল, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ইতিহাস-ঐতিহ্যগুলো নিয়ে আলোচনা করছেন ও ভিডিও প্রদর্শন করেছেন বলে জানান। ‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে ‘ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ’ সংগঠনের যাত্রা শুরু করে ভ্রমণ কন্যারা। এই দলের নেতা ডা. সাকিয়া। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর। ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল ভোরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে নারী জাগরণের বার্তা নিয়ে স্কুটিতে দেশ ভ্রমণে তারা প্রথম যাত্রা শুরু করি।

এতো বিষয় থাকতে ভ্রমণে আগ্রহের কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, দেশ দেখার আগ্রহটা ছোটবেলা থেকেই ছিল। কিন্তু পরিবার থেকে অনুমতি মিলতো না। এতে মন খারাপ হতো। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, একটা মেয়েদের ভ্রমণবিষয়ক সংগঠন দাঁড় করাবো। এরপরই ফেসবুকের মাধ্যমে সংগঠনটি দাঁড় করাই। শুরুতে কর্ণফুলী গ্রুপ আমাদের দুটি বাইক কিনে দেন। আর নিজেদের টাকায় কিনে ভ্রমণ করতাম। কিন্তু সপ্তম ধাপে এসে আমাদের পাশ দাঁড়ান স্কয়ার গ্রুপ।

ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মানসী বলেন, এই ভ্রমণের মাধ্যমে আমরা বঞ্চিত নারীদের অধিকার জাগিয়ে তুলতে চাই।

সাকিরা ও মানসী খুলনার মেয়ে। সিলভী জয়পুরহাট ও সুমা বরগুনার মেয়ে। সাকিয়া ও মানসী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ইন্টার্নি শেষ করেছেন। স্কুল থেকেই ওরা দুজন একসঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতেন। ছোটবেলা থেকেই তারা ঘুরতে পছন্দ করতেন। তাদের সঙ্গে যোগ হন ঢাবির দর্শন বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করা সিলভী রহমান এবং ঢাবির ফার্সি বিভাগে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শামসুন নাহার সুমা ।  প্রথম ধাপে তারা নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিন জেলা ভ্রমণ করেন। দ্বিতীয় ধাপে নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট, তৃতীয় ধাপে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, শেরপুর, গাজীপুর, চতুর্থ ধাপে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর কুষ্টিয়া; পঞ্চম ধাপে পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, বরিশাল, শরীয়তপুর, মাদারীপুর; ষষ্ঠ ধাপে ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চাঁদপুর এবং সপ্তম ধাপে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নওগাঁ, জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, জামালপুর, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ভ্রমণ করে।