সিলেটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাথর উত্তোলন থামছে না

পাথর কোয়ারিতে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ হানিফ, সিলেট

সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিনিয়ত সবুজ টিলা থেকে পাথর আহরণ করা হচ্ছে। একশ্রেণির প্রভাবশালী পাথর খেকো বোমা মেশিন ব্যবহার করে কখনো মাটির নিচে বিপজ্জনক গর্তে শ্রমিক নামিয়ে পাথর আহরণ করেন। পাথর সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিবছর দুর্ঘটনায় গড়ে ১০-১৫ জন শ্রমিক মারা যায়। এদের মধ্যে নারী শ্রমিকও রয়েছে। এ রকম দুর্ঘটনা গত ২০ বছর থেকে ঘটেছে। যখন হয় তখন এ নিয়ে হৈ-চৈ হয়। প্রশাসনেরও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। তবে কিছুদিন পর তা আবার চাপা পড়ে। পাথরের যে সব কোয়ারি আছে তার অধিকাংশই বেআইনি। এ সব কোয়ারি যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা টাকার বিনিময়ে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর দুর্নীতিপরায়ণ সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি জাফলং পাথর কোয়ারিতে পাড় ধসে আহমদ আলী (৫৫) নামে এক শ্রমিক মারা যান। বেআইনিভাবে পাথর উত্তোলনের ব্যাপারে উদাসীনতার কারণেই এ সব ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, নিহত এক শ্রমিকের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন। সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া গত ৩০ জানুয়ারির জাফলং পাথর কোয়ারির পে-লোডার চাপায় রাজবাড়ী জেলার মালেক মণ্ডলের ছেলে শহদী মণ্ডল (৩০) মারা যায়। এ ঘটনায়  মামলার পর থানা পুলিশ এক জনকে আটক করে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত্ পাল জানান, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে কিছু ব্যক্তি গোপনে পাথর উত্তোলন করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। অপরদিকে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে বেআইনিভাবে কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। টাস্কফোর্সের অভিযানে ধ্বংস করা হয় অসংখ্য বোমা মেশিন। তখন পাথর খেকো চক্র কিছু দিন নীরব থাকলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে অতি মুনাফা লোভী পাথর খেকোরা।

গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছুদিন পূর্বে জাফলং এলাকার মন্দির জোম   নামক স্থান হতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করার দায়ে বেশ কয়েকটি গর্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। চলতি বছরের শুরু থেকে পাথর খেকো চক্রটি নানা পন্থায় বেআইনিভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করে। গত ৭ জানুয়ারি কোম্পানীগঞ্জে শাহ আরেফিন টিলায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকালে গর্ত ধসে দুই শ্রমিক প্রাণ হারান। এরা হলেন— দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সোনা মিয়া (২৫) ও নুরুল হক (৩০)। এ নিয়ে গত দুই বছরে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধভাবে পাথর তুলতে গিয়ে প্রাণ হারায় অন্তত ৬২ শ্রমিক। তবে এ সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা স্থানীয়দের।