‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে জোর দিতে হবে পুষ্টিতে’

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে খাদ্য সমস্যা মোকাবিলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এখন সকলের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহে খাদ্য ব্যবস্থাকে সাজাতে হবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ইট-ল্যাঞ্চেট কমিশন রিপোর্ট ইন বাংলাদেশ’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। বক্তারা বলেন, পুষ্টি সমস্যা শুধু বাংলাদেশের বা তৃতীয় বিশ্বের সমস্যা নয় বরং বিশ্বব্যাপী এই সমস্যা বিরাজমান। তাই এই সমস্যা মোকাবিলায় বিশ্বের প্রতিটি দেশকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উল্লেখ্য, ইট-ল্যাঞ্চেট কমিশন খাদ্য, স্বাস্থ্য সুস্বাস্থ্য ও পরিবেশগতভাবে টেকসই ডায়েটের বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক ঐকমত্যে পৌঁছাতে বিশ্বব্যাপী কাজ করে।

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই), ইট ও গেইন (গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইমপ্রুভ নিউট্রেশন) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লিকেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. রুহুল আমিন তালুকদার, গেইন-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর পরিচালক ড. সালিমুল হক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কোসার আফসানা,  এফএও’র প্রতিনিধি ড. ললিতা ভট্টাচার্য ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ।

রিপোর্টের বিষয়বস্তু তুলে ধরে আইএফপিআরআই’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. আখতার আহমেদ বলেন, অসুস্থতার পেছনে অন্য যে কোনো কারণের চাইতে বেশি দায়ী অপুষ্টি। এজন্য খাদ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হলে আমরা কী উত্পাদন   করি, কী ধরনের খাদ্য হাতের কাছে পাই কিংবা খাই— তাতে মনযোগ দিতে হবে। তবে দেশে দেশে স্বাস্থ্যকর, পুষ্টি ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থায় ভিন্নতা রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, দারিদ্র্র্য ও অপুষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শিশু মৃত্যুহার দ্রুত কমিয়ে আনতে পেরেছে। মূলত পানি ও পয়:নিষ্কাশন, কৃষি খাতের উন্নয়ন ও পুষ্টিসহ কিছু নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।