গভীর সমুদ্রে যাচ্ছেন উপকূলের জেলেরা

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

সোমবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে সমুদ্রে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা। ট্রলার, জাল মেরামত শেষে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এখন দল বেঁধে সাগরে যাত্রা করেছে উপকূলের অর্ধলক্ষাধিক জেলে ও কয়েক হাজার ট্রলার। মন্দা কাটিয়ে মৌসুমের শেষ সময়ে সাগর-নদীতে মিলবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ এমন প্রত্যাশা জেলেসহ মত্স্য ব্যসায়ীদের। প্রতি বছর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার শেষের দিকে গভীর সমুদ্র থেকে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের নদীর মোহনায় এসে ডিম ছাড়ে মা-ইলিশ। তাই ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য মা-ইলিশের বাধাহীন প্রজননের জন্য নদী ও সাগরে মাছ শিকার বন্ধ ছিল। কর্মহীন এ সময়ে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের অর্ধলক্ষাধিক জেলে তাদের ট্রলার ও জাল মেরামতের পাশাপাশি ইঞ্জিনের কাজ শেষ করে সমুদ্রে গেছেন। এবার উপকূল জুড়ে মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ থাকে। তবে এ নিষেধাজ্ঞার সময় বাংলাদেশের জলসীমানায় ঢুকে মাছ শিকার করে নিয়ে গেছেন পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেরা—এমনটাই দাবি করেছেন মত্স্যজীবীরা।

মত্স্য বন্দর আলীপুরের জেলে সিদ্দিক, বেল্লাল ও রুহুল আমিন মাঝি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সমুদ্রে যাচ্ছি। এ বছর ইলিশের ভরা মৌসুমে মাছ না পেয়ে উপকূলের জেলেরা দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তবুও ইলিশের উত্পাদন বৃদ্ধিতে সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মাছ শিকার থেকে বিরত ছিলেন উপকূলের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক জেলে। এবার সমুদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লে দায়দেনা শোধ করতে পারব। কলাপাড়া উপজেলা ফিসিং ট্রলার মাঝি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাঝি বলেন, দেশের জেলেরা নিষেধাজ্ঞা পালন করলেও ভারতের জেলেরা দেশের জলসীমায় প্রবেশ করে অবাধে মাছ ধরছে। তাই ইলিশ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা সফল করতে দেশের জলসীমানা শতভাগ সুরক্ষা করতে হবে। মহিপুর মত্স্য আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি ফজলু গাজী বলেন, অবরোধের আগে মাছ ধরা পড়েনি। যা ধরা পড়েছে তাও আকারে ছিল ছোট। আশা করছি এবার বড় সাইজের পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা মিলবে।  কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, মা-ইলিশ রক্ষায় দিনরাত কাজ করা হয়েছে। উপকূলের জেলেরা নিজেরাই সচেতন। জেলে-ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় নিষেধাজ্ঞা শতভাগ সফল হয়েছে। ২২ দিনের অভিযানে এক জন জেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ১৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।