রাজউকে অভিযোগের পাহাড় সুরাহার আশ্বাস চেয়ারম্যানের

রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে প্লটের জন্য আবেদন করেন নাদিম অওলাদ। তার জমির পরিমাণ ছিল ৪৪ শতাংশ। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তিনি পূর্বাচলে কোনো প্লট পাননি। পরে কারণ হিসেবে জানা যায়, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে যে আবেদন করেন, বরাদ্দের সময় তা খুঁজে পায়নি রাজউক। অবশ্য তিনি কিছুদিন রাজউক কার্যালয়ে দৌড়াদৌড়ির পর সেই আবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু তত দিনে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের প্লট দেওয়ার কাজ শেষ করে সরকার। রবিবার রাজউক কার্যালয়ে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে এমন অভিযোগ করেন নাদিম আওলাদ ও তার চাচা। পরে রাজউকের চেয়ারম্যান আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘আমরা আপনার অভিযোগটি খতিয়ে দেখব।’ রুহুল আমিন জানান, গত এক মাস ধরে এই কাগজপত্র নিয়ে তিনি রাজউকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুরেছেন। তবু এর কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমাদের আবেদন হারিয়ে ফেলে রাজউক। এজন্য আমরা কেন হয়রানির মধ্যে পড়ব? এটা তো তাদের দায়।’ অনেকে জমির মালিক না হয়েও পূর্বাচলে প্লট পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া এমন আরো কিছু অভিযোগ নিয়ে আসেন অনেকে। এর মধ্যে হাসনেয়ারা নামে এক নারী পূর্বাচল প্রজেক্টে গাজীপুর অংশের অধিবাসী ছিলেন। তার জমির পরিমাণ ছিল ৩৯ শতাংশ। তার পরেও তিনি প্লট পাননি বলে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে আব্দুল হাকিম নামের আরেকজন জানান, তার জমির পরিমাণ ৫০ শতাংশ হলেও তিনি কোনো প্লট বরাদ্দ পাননি। তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে কারা প্লট পেল—এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে রাজউকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও বেনামে রাজউকে প্লট নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব।’

শুধু প্লট-সংক্রান্ত অভিযোগই নয়, রাজউক আয়োজিত গণশুনানিতে আরো বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আসেন ভুক্তভোগীরা। এর মধ্যে ছিল রাজউকের বারিধারা প্রজেক্টের অধিগ্রহণের টাকা এখনো না পাওয়া।

জামাল প্রধান নামে গুলশানের এক বাসিন্দা বলেন, ‘অধিগ্রহণের জন্য বলা হলেও পাঁচ বছরেও কোনো সুরাহা হয়নি। প্রজেক্ট শুরুও হচ্ছে না, আবার আমাদের জমিও আটকে রয়েছে। আমরা এর সুরাহা চাই।’ জমির দাম বেশি দেওয়া হবে। তাড়াতাড়ি টাকা পাওয়া যাবে এমন কথা বলে রাজউকের পরিচয়ে অনেক অসাধু কর্মকর্তা টাকা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। কিবরিয়া চৌধুরী জাকারিয়া নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, বারিধারা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ চলছে পাঁচ বছরের ওপরে হতে চলল। ডিসি অফিস থেকে বলা হয় রাজউক জানে, আবার রাজউক বলে ডিসি অফিস।

তার এমন প্রশ্নে রাজউকের কর্মকর্তারা বলেন, ‘রাজউক শুধু প্রজেক্টের কাজ বাস্তবায়ন করবে। আর জমি অধিগ্রহণের কাজ ডিসি অফিসের। তারা জমি অধিগ্রহণ করে হস্তান্তর করলে আমরা সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন করব। তবে এই প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে, তাই আমরা এর আয়তন বড় করে আবার প্রস্তাব পাঠিয়েছি। খুব শিগগির এই প্রজেক্টের একটি সুরাহা হবে বলে আশা করছি।’ কর্মকর্তারা আরো বলেন, ‘রাজউক পরিচয়ে কেউ টাকা চাইলে আাামাদের কাছে অভিযোগ দেন, আমরা ব্যবস্থা নেব।’ নুর মোহাম্মদ হোসাইন নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘২০০১ সালে টঙ্গী শিল্প এলাকায় রাজউক থেকে আমি একটি প্লট পাই। কিস্তিও পরিশোধ করেছি। কিন্তু প্লটে যে কিছু করব, সেই রাস্তা নেই।’

আনিসুর রহমান নামে মিরপুরের এক বাসিন্দা জানান, তার পাশেই একজন দশতলা বাড়ি করছেন কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই। বাড়ির ভিত্তিপ্রস্তর এমনভাবে করা হয়েছে, যে কোনো সময় সেটি ভেঙে পড়তে পারে। রাজউকে তিনি অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করেছেন। গণশুনানিতে রাজউকের চেয়ারম্যান আমিন উল্লাহ নুরী ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে রাজউকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোনো অভিযোগ থাকলে সরাসরি আমাদের কাছে আসবেন। আমরা সমস্যার সমাধান করব। আমরা প্রকৃত সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।’ প্রতি মাসে গণশুনানি করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।