ডেন্টাল কলেজে ভর্তিতে প্রতারণা, গ্রেফতার ১

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ডেন্টাল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগে আবু মুসা আসারী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত রবিবার রাতে গেন্ডারিয়া থানাধীন নারিন্দা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, করোনা মহামারির কারণে বেশ কয়েক দফা পেছানোর পর গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি ভর্তি পরীক্ষা হয়। ফল প্রকাশিত হয় ১২ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফেসবুকের মাধ্যমে মুসা নামে এক প্রতারকের সঙ্গে পরীক্ষার্থীর মায়ের পরিচয় হয়। প্রতারক নিজেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দেন এবং রোল নম্বর নিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে জানান, ঐ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল ভালোই হয়েছে। সরকারিভাবে ভর্তির সুযোগ পেলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনিয়মের কারণে তাকে সুযোগ না দিয়ে অন্য কাউকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। তবে এখনো মেয়েকে  ডেন্টালে ভর্তি করানোর সুযোগ আছে। সে জন্য মেয়ের মায়ের কাছে ১০ লাখ টাকা উেকাচ দাবি করে প্রতারক। ভুক্তভোগীর কাছে এত টাকা না থাকায় মুসা বলেন, ‘এখন ২ লাখ টাকা দিন, বাকি টাকা ভর্তির পর দিলেই হবে।’

উপ-কমিশনার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, অভিযুক্তের কথা বিশ্বাস না করায় তখন ভিকটিমের ইমো আইডিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি নবিউল হাসানের পরিচয়পত্র পাঠিয়ে  দেয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর মনে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য মোবাইলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে ভুয়া  চ্যাটিং স্ক্রিনশট পাঠায়। এতে ভুক্তভোগী কিছুটা আশ্বস্ত হন। পরে যাত্রাবাড়ী থানার শহিদ ফারুক সড়কের একটি কোচিং সেন্টারের সামনে মুসার সঙ্গে দেখা করে চাহিদা মোতাবেক ২ লাখ টাকা  দেন।

ডিবি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন আরো বলেন, টাকা দেওয়ার পরদিন মুসাকে ফোন করে ফলের বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায়, ‘আজকের মধ্যেই ওপরের মহলে আরো ১ লাখ টাকা দিতে হবে, নতুবা তার মেয়ের  ফল আগের মতো বলবত্ থাকবে।’ তখনই মুসার কথাবার্তায় ভুক্তভোগীর সন্দেহ হয় এবং অনুমান করেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় গত শনিবার যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হলে এটি তদন্তের জন্য ডিবিতে    হস্তান্তর করা হয়। তখন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম তদন্ত করে রবিবার রাতে গেন্ডারিয়া থানার নারিন্দা এলাকা থেকে অভিযুক্ত মুসাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মুসা স্বীকার করেছেন, এর আগেও তিনি প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত্ করেছেন।