আদালত অবমাননার অভিযোগে ফেনীর সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. ফিরোজ আলমকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে হাইকোর্ট। পনেরো দিনের মধ্যে জরিমানার এই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। ব্যর্থ হলে তাকে সাত দিনের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই রায় দেন। রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ভ্রমণ ও পরিদর্শনের ক্ষেত্রে প্রটোকল দেওয়া নিয়ে কয়েক দফা নির্দেশনাও দিয়েছে আদালত। জেলা জজ শীপ ও জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারদের প্রতি দেওয়া ওই নির্দেশনা সার্কুলার আকারে জারি করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আইন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছুটির দিনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কোনো জেলা সদরে পরিদর্শন, ভ্রমণ বা সফরে গেলে জেলা ও দায়রা জজ পদ মর্যাদার অন্তত একজন বিচারিক কর্মকর্তা সফরকারি বিচারপতিকে সার্কিট হাউজ বা তার অবস্থানের জায়গায় অভ্যর্থনা জানাবেন। সে সময় জেলা ও দায়রা জজ জেলা সদর দপ্তরে অবস্থান করলে অবশ্যই তাকে সফরকারি বিচারপতিকে সৌজন্য কল করতে হবে। সপ্তাহের কোনো কর্মদিবসে অফিস চলাকালে সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারপতি সফরে গেলে জাজ ইনচার্জ নেজারত বিচারপতিকে অভ্যর্থনা জানাবেন। তবে আদালতের কার্যক্রম শেষে জেলা দায়রা জজ অথবা তার অনুপস্থিতেতে একজন বিচারিক কর্মকর্তা সফরকারি বিচারপতিকে সৌজন্য কল দিবেন। সফরকারি বিচারপতি উপজেলা বা গ্রামে অবস্থান করলে জাজ ইনচার্জ নেজারত অথবা একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তার দেখভাল করবেন। সফরকারি বিচারপতির বিদায়ের সময় জেলা ও দায়রা জজ বা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার বা তাদের প্রতিনিধিদেরও সে সময় উপস্থিত থাকতে হবে।
২০০৩ সালের ২০ অক্টোবর হাইকোর্টের তত্কালীন বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলামের সফরসূচি জানিয়ে ফেনী জজ আদালতে চিঠি দেওয়া হয়। ২২ অক্টোবর ওই বিচারপতি ট্রেনযোগে ফেনীতে যান। কিন্তু জেলা জজশীপ থেকে তাকে কোন প্রটোকল দেওয়া হয়নি। পরে জেলা প্রশাসক ওই বিচারপতির প্রটোকলের ব্যবস্থা করেন। পরে বিচারপতি ঢাকায় ফিরে স্বত:প্রণোদিত হয়ে জেলাজজসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে। পরে তারা হাইকোর্টে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালত অবমাননার রুল শুনানি শেষে গতকাল হাইকোর্ট এ রায় দেয়। রায়ে ওই আদালতের নাজির ও নায়েবে নাজিরকে অব্যাহতি দেয় আদালত। প্রসঙ্গত হাইকোর্টের ওই বিচারপতি এবং জেলা জজ দুজনেই অবসরে গেছেন।