তৌকীর আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’ দেশের ৫২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে আজ। এটিই বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। তিনি জানালেন, আজ বিকেলে বঙ্গভবনে চলচ্চিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এটি উপভোগ করবেন। এছাড়া ফাগুন হাওয়ায়’র বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি বিনোদন প্রতিদিনের মুখোমুখি হয়েছেন। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন নুরুল করিম
‘ফাগুন হাওয়ায়’ অনেকের কাছে বেশ গম্ভীর কাজ বলে মনে হচ্ছে। চলচ্চিত্রটি নিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন—
এটি উপভোগ করার মতো একটি ছবি। ফাগুন হাওয়ায় শুধু দেশ বা ভাষার ছবি নয়, এটি একটি ভালোবাসার গল্প, আনন্দের গল্প। এই ছবিতে তারুণ্যের অনেক উচ্ছ্বলতা আছে, একইসঙ্গে দ্রোহ-বিদ্রোহ আছে। আমরা চেষ্টা করেছি উপভোগ্য করে বানানোর। আমি কোনো ডকুমেন্ট বা পাঠ্যপুস্তক বানাইনি। সিনেমা মানুষকে বিনোদিত করে। আমি অজ্ঞাতনামার মতো সিনেমাতেও চেষ্টা করেছি মানুষকে বিনোদিত করার। সবাইকে সিনেমা হলে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এটা কোনো গুরুগম্ভীর চলচ্চিত্র না।
চলচ্চিত্রটির কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন। দর্শক হিসেবে আপনার মন্তব্য কী?
সাধারণ দর্শক হিসেবেও আমি ওপরের কথাগুলোই বলবো। আমি নিজেও সাধারণ দর্শক হিসেবে এমন একটি ছবি দেখতে পেরে আনন্দিত।
টিটো রহমানের ‘বউ কথা কও’ ছোট একটি গল্প। এটি থেকে দু-ঘণ্টার বেশি সময়ের একটি সিনেমা নির্মাণ করেছেন। কিভাবে সম্ভব হয়েছে?
এই গল্পের মধ্যে একটি সিনেমার সবকিছুই ছিল। তবে আপনার প্রশ্নের উত্তরটা সঠিকভাবে পেতে সিনেমাটি আগে দেখতে হবে।
এটি যেহেতু ইতিহাস নির্ভর সিনেমা। নির্মাণের দিক থেকে কোন বিষয়টি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল?
আসলে বায়ান্নর যে প্রেক্ষাপট তা এই সময়ে ক্যামেরায় তুলে ধরাটা বেশ কঠিন। কেননা, এই ৬৬ বছরের ব্যবধানে আমাদের ঘরবাড়ি, রঙ, গ্রাম-শহরের চেহারা সবই পাল্টে গেছে। সুতরাং আমাদের অনেক বেশি সচেতনভাবে কাজ করতে হয়েছে। সেসময়কার বিল্ডিং, গাড়ি, মোটরসাইকেল, দৈনন্দিন আসবাবপত্র কিংবা একটি কলম—সবকিছুই খুব যত্ন নিয়ে সংগ্রহ করতে হয়েছে। একইসাথে অনেক আধুনিক জিনিসকে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। সব মিলিয়ে পুরো জিনিসটাই চ্যালেঞ্জিং ও সময় সাপেক্ষ ছিল। ব্যয় সাপেক্ষও বটে।
চলচ্চিত্রটির চরিত্র নির্বাচনে আপনি কোন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন?
যারা অভিনয় জানেন, আমি তাদের নিয়েই কাজ করি। এই ছবিতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আমার চলচ্চিত্রে গুণী অভিনয়শিল্পীরা নিজেদের সেরাটা দিয়েই কাজ করেছেন। যেটা সিনেমা মুক্তির পর দর্শকরা বুঝতে পারবেন। তিশা খুব ভালো অভিনেত্রী, সে আমার আগের চলচ্চিত্রেও কাজ করেছে। আর নাসির চরিত্রের জন্য তরুণ এমন একজনকে প্রয়োজন যেখানে সিয়াম পারফেক্ট ছিল এবং সে খুব ভালো অভিনয় করেছে। এখানে আমি যশপাল শর্মাকে নিয়েছি, তার কারণ হলো আমি চেয়েছি পাকিস্তানি একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে কম পরিচিত একজন মুখ এবং অনর্গল যে উর্দু বলতে পারে। আমি আসলে এভাবেই ফাগুন হাওয়ায় চলচ্চিত্রের জন্য শিল্পী নির্বাচন করেছি। তাদের সবার অভিনয়ে আমি বরাবরের মতো মুগ্ধ।