ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো শুরু

সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের দৌরাত্ম একেবারে শেষ বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

আমরা স্বচ্ছতার মধ্যে দিয়ে আমাদের দায়িত্বের গতিকে ত্বরান্বিত করতে চাই। যদি এটা মেনে থাকতে চান তাহলে থাকতে পারেন। আর যদি থাকতে না চান তাহলে চলে যান, না হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো। জনগণের কষ্টের টাকা দিয়ে আমাদের বেতন দিয়ে দায়িত্বে রাখা হয়। এ পরিস্থিতিতে বসে আবার ঠিকাদারদের মাধ্যমে জনগণের টাকা নষ্ট করার আর কোনো সুযোগ নেই। গতকাল ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক ‘ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ৩ দিনব্যাপী  এই প্রদর্শনীটি আয়োজন করেছে ইলেকট্রনিক্স সেফটি এবং সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব)।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ ম রেজাউল করিম আরো বলেন, ‘আমি জানি অনেক বড়দের সঙ্গে আমার এ যুদ্ধ। যারা অর্থ-বৃত্তে ক্ষমতায় অনেক বেশি শক্তিশালী। যাদের পেছনে বড় রাজনৈতিক ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাস অনেক দৃঢ়। আমি আল্লাহ আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কাউকে এ ক্ষেত্রে গ্রাহ্য করি না।’

এ সময় তিনি কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশের সমস্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নগুলো  পরিচালনা করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। পরিদর্শনের জন্য আমি উত্তরার তৃতীয় ফেইজে গিয়েছি। কাঠামোগুলো কেন হয়নি সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারদেরকে ডেকে জানতে চেয়েছি। দু’বছরের কাজের চুক্তি নিয়ে ৬ বছরেও একটি কাজ শেষ হয়নি। কিন্তু প্রতিবছর নির্মাণের খরচ বাড়তি দেখানো হয়েছে। যেটার নাম রেখেছিল ‘ফ্রন্ট লোডিং’। এ ধরনের লোডিং আর হবে না। ঠিকাদার কাজ করতে পারবে না, আর সরকার বিল বাড়াবে, তা হবে না। এ টাকা জনগণের টাকা, তা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’

প্ল্যান পাস করতে আর সরকারি অফিসে আসতে হবে না, অনলাইনেই তা সম্ভব হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি মন্ত্রণালয়ের যোগদান করার পরই দেখেছি একটি সনাতন পদ্ধতি থেকে উত্তরণের কোনো পথ খোলা নেই। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি, এ সব বিষয় আমাকে আগে বোঝাতে হবে। আমি জানতে চেয়েছি একটি প্লান পাস করতে কেন ১৫০ দিন কিংবা তার চেয়ে বেশি সময় লাগবে। কারো কারো কাছ থেকে অভিযোগ পেলাম প্ল্যান পাস করতে ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগে। যাচাই-বাছাই করে দেখলাম সর্বমোট ১৬টি ধাপ অতিক্রম করা লাগে। ১৬টা টেবিলে ১৬ জন কর্মকর্তাকে রাজি খুশি করানো লাগতো। এখন তা কমিয়ে চারটি ধাপে নিয়ে এসেছি এবং বিশেষ প্রয়োজনে ২টি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। সর্বোচ্চ ৫০ দিনের মধ্যে একটি প্ল্যান পাস এখন থেকে করানো যাবে। এ বছরের মে মাস থেকে আর কাউকে সরকারি কার্যালয়ে এসে প্ল্যান পাসের জন্য সময় নষ্ট করতে হবে না। অনলাইনে ঘরে বসেই তা করা যাবে।’