বছর চারেক আগেও ঘরোয়া ক্রিকেটে আলোচিত নাম ছিল রনি তালুকদার। ২০১৫ সালে তার রান মিছিলের কারণে পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে ‘২২ গজে রনির তালুকদারি’। টপঅর্ডারে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠেলে জাতীয় দলে সুযোগও পেয়েছিলেন ডানহাতি এই ওপেনার। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি খেলেই বাদ পড়েছিলেন রনি।
তারপরের সময়টাতেও নিষ্প্রভ ছিল না তার ব্যাট। তবে সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দুর্দান্ত ব্যাটিং করে আবারও পাদ-প্রদীপের আলোয় এসেছেন রনি। ১৫ ম্যাচে তিন হাফ সেঞ্চুরিসহ ৩১৭ রান করেছেন ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলা এই ব্যাটসম্যান। আসরের ষষ্ঠ সেরা রান সংগ্রাহক, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে তিনি। বিপিএলে তার স্ট্রাইক রেটও ছিল আকর্ষণীয়, ১৪০.২৬।
বিপিএল ছেড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্য টুর্নামেন্টগুলোতে তাকালে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ মৌসুমটা দুর্দান্ত কাটছে রনির। জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) চার ম্যাচে ৪২৬ রান করে পঞ্চম স্থানে ছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ছয় ম্যাচে ৪৬০ রান করে চতুর্থ সেরা তিনি।
বিপিএলসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে এই ব্যাটসম্যানের মূল্যায়ন, এখন ব্যাটসম্যান হিসেবে অনেক পরিণত হয়েছেন। কাটিয়ে উঠেছেন অনেক ঘাটতি। নিজের এই উত্তরণে ধন্যবাদ দিয়েছেন ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন এবং বিসিএলে সতীর্থ মুমিনুল হককেও।
গতকাল একান্ত আলাপে বিপিএলের পারফরম্যান্স নিয়ে রনি বলেছেন, ‘পারফর্ম করতে পারাটা সত্যিই এক আনন্দের বিষয়। এই সময়ে পারফর্ম করাটা খুবই দরকার ছিল আমার। কারণ গত বছর অনুশীলন ভালো ছিল। আমি অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। এই পারফরম্যান্স অবশ্যই সামনে আমাকে ভালো খেলতে সাহায্য করবে।’
এটাই রনির খেলা সেরা বিপিএল। তারকাবহুল ঢাকা দলের সেরা ব্যাটসম্যানও তিনি। ফাইনালে তামিমের বিস্ফোরক সেঞ্চুরির পরও রনির ঝড়ো ৬৬ রান বদলে দিচ্ছিল ম্যাচের চিত্রপট। কিন্তু ম্যাচ শেষ করে আসতে না পারার আক্ষেপই সঙ্গী হয়েছে তার।
বলেছেন, ‘সত্যিই, অনেক বড় হতাশা আমার জন্য। কারণ আমি এর আগের ম্যাচেও রানআউট হয়েছিলাম। ফাইনালেও। তামিম অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। একটা সময় মনে হয়েছে আমরাও ভালো অবস্থায় আছি। ম্যাচটা আমাদের হাতেও আছে। ওই জায়গা থেকে আমি যদি আরও দুই-তিনটা ওভার খেলতে পারতাম, তাহলে মনে হয় ম্যাচটা আমাদের দিকেই আসতো। খেলাটা অন্যরকম হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য হয়নি।’
ম্যাচের পর রনির প্রতি সাকিবের পরামর্শ ছিল এমন, ‘সাকিব ভাইও বলছে যে, যখন এই ম্যাচগুলো তুই শেষ করতে পারবি, তখন বড় প্লেয়ার হতে পারবি।’
বিপিএলে প্রতি ম্যাচেই তিন নম্বরে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন রনি। কোচ সুজন ঠিক করে দিয়েছিলেন এই ওপেনারের করণীয়। রনি বলেছেন, ‘সুজন ভাই আমাকে ব্যক্তিগতভাবে ডেকে নিয়ে বলেছে, তুই যে কোনো জায়গায় ব্যাটিং করতে পারিস। ওপেন, ওয়ানডাউন, ছয়-সাত নম্বরেও হতে পারে। সত্যি বলতে, আমাকে তিনি ওইভাবেই অনুশীলন করিয়েছে। সুজন ভাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।’
রনির বয়স এখন ২৮। তার মতে, এখনই সময় সেরাটা দেওয়ার। ব্যাটসম্যান হিসেবে আগের চেয়ে পরিণত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এখনই তো সময় ভালো খেলার। এতদিন তো পরিণতবোধ আসেনি। এখন আমি অনুভব করছি আমার মাঝে পরিণতবোধ এসেছে। ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিণত হয়েছি। এই বয়সেই একটা খেলোয়াড় তার সম্পূর্ণটা দিতে পারে, আমি মনে করি। এখন আমি আগের চেয়ে ভালো কিছু দিতে পারবো।’
জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্নটা বিসর্জন দেননি রনি। বিপিএল আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে অনেকগুণ। আসন্ন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেরা চারে থাকতে চান তিনি। তাতে বাংলাদেশের জার্সিটা আবার গায়ে জড়ানোর দাবিটা জোরালো করার চিন্তাই করছেন রনি।