অল্পের জন্য রক্ষা বসুন্ধরা কিংসের

বসুন্ধরা কিংস তাদের নিজেদের হোম ভেন্যু নীলফামারীতে ম্যাচ জিতে পয়েন্ট পেলেও অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। পেনাল্টি পেয়ে গোল করে বসুন্ধরা কিং রহমতগঞ্জকে হারিয়েছে। আফসোসের শেষ নেই রহমতগঞ্জ কোচ ফুটবলার এবং কর্মকর্তাদের। রেফারি মিজানুর রহমানের সিদ্ধান্তটিকে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত মনে করছেন রহমতগঞ্জ ফুটবল কর্মকর্তারা। পেনাল্টির প্রতিবাদে খেলা কয়েক মিনিট বন্ধ ছিল। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বাকবিতণ্ডা হলেও শেষ পর্যন্ত কষ্ট মেনে নিয়ে খেলায় ফিরেছেন। ম্যাচের ৫০ মিনিটে পেনাল্টির ঘটনা ঘটে। রহমতগঞ্জের নাইজেরিয়ান মানডে ওসেইগি বল ক্লিয়ার করার জন্য চেষ্টা করেন। বসুন্ধরার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মার্কোস ভিনিসুয়ুয়াস মাটিতে পড়ে যান। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। তর্কবিতর্ক শেষে কিরগিজ ফুটবলার পেনাল্টি হতে গোল করেন ১-০। এই একটি গোলের ওপর ভর করে বসুন্ধরা কিংস কাল ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।

খেলা শেষে রহমতগঞ্জের ডাগআউটে যেমন হতাশা ছিল। কোচ কর্মকর্তারা অখুশি ছিলেন। অনেকটা সময় ধরে সাইড বেঞ্চেই বসে ছিলেন কর্মকর্তারা। আর বার বার আফসোস করে বলাবলি করছিলেন এভাবে যদি রেফারি আমাদের হারিয়ে দেয় তাহলে টাকা খরচ করে দল বানিয়ে কি লাভ। মার্কোর পায়ে বেঁধে পড়ে গেলেন, ফাউল না দিয়ে উল্টো পেনাল্টি দিল। রহমতগঞ্জ মনে করছে একটা গোল বাদ দিলে তারা অসাধারণ ফুটবল খেলেছে। খেলা শেষে বসুন্ধরা কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজেন এগিয়ে গিয়ে রহমতগঞ্জের কোচ গোলাম জিলানীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভালো খেলার প্রশংসাও করেছেন। গোলাম জিলানী জানিয়েছেন অস্কার ব্রুজেন আমাকে জিজ্ঞেস করছিল এত ভালো খেললে। এত ভালো একটা দল নিয়ে আবাহনীর বিপক্ষে ৫-১ গোলে হারলে কিভাবে।

কাল বিকালে নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামের মাঠে বসুন্ধরা এবং রহমতগঞ্জ ম্যাচটা উত্তাপ ছড়িয়েছিল। আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ দেখা গেছে। বসুন্ধরা যখন গোল পাচ্ছিল না তখন রহমতগঞ্জও মরিয়া হয়ে গোলের জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল।

বসুন্ধরার গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো দারুণ সব সেভ দিয়েছেন। ফসালের শট কর্নার করে রক্ষা করেন। কঙ্গোর সিউ জুনাপিওর শট আবারো বাধা হয়ে দাঁড়ান জিকো। নাইজেরিয়ান দামিয়েন চিগোজির বুলেট শট এবারো গোলকিপার জিকো রক্ষা করেন।

বসুন্ধরার আক্রমণে কোস্টারিকার ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেস, ব্রাজিলের মার্কোসরাও রহমতগঞ্জের ঘরে হানা দিয়েছিল। রহমতগঞ্জের গোলকিপার আরিফুল যেমনটা সতর্ক ছিলেন, তেমনই বসুন্ধরারও কপাল খারাপ ছিল।

৫ খেলায় বসুন্ধরার পয়েন্ট ১৫। বসুন্ধরা একমাত্র সবকয়টি জিতেছে। বসুন্ধরা শীর্ষস্থানে থাকল। রহমতগঞ্জ ৬ খেলায় এখনো জয়ের মুখ দেখেনি, ড্র আছে তিনটি।