শারীরিক সক্ষমতা নেই। তারপরও অদ্যম ফরিদপুরের আশরাফুল আলম। রেফারি হয়ে বাঁশি বাজিয়ে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন আশরাফুল। তার ডান হাতের কব্জি নেই। পাঁচটা আঙ্গুলের নখের আগা থাকলেও পুরো আঙ্গুল নেই। কোনো কাজেও আসছে না। তারপরও এই হাত নিয়েই ক্যারিয়ার গড়তে ছুটছেন আশরাফুল। ফুটবল রেফারী হওয়ার জন্য ঢাকায় বাফুফের অধীনে কোচিং করেছেন। তৃতীয় গ্রেডের রেফারি হয়ে শুরুটা করলেন অনেক স্বপ্ন নিয়ে। কবে বাঁশি হাতে মোহামেডান আবাহনী ম্যাচ পরিচালনা করবেন সেই আশায় চোখ রাখছেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে।
এক সময় ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জ ক্রিকেটে খেলতেন। বল করতেন। মাঠের বাইরে দর্শক অপেক্ষায় থাকতেন আশরাফুল কিভাবে ব্যাট করে তা দেখার জন্য। আশরাফুল তার অসম্পূর্ণ হাত কাজে লাগিয়ে ক্রিকেট মাঠে দুই হাতেই ব্যাট করেছেন। সবাই অবাক। দর্শক আরো অবাক হয়েছেন যখন এই হাতে মোটর সাইকেল চালিয়েছেন। গাড়ি চালিয়েছেন। আশরাফুল ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে সবার কাছে আদর্শ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পায়ে ঠেলে দিয়েছেন ২৬ বছর বয়সি এই ছেলে। অথচ একটা সময় শারীরিক অক্ষমতা তাকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল। ঘরের বাইরে লোকসমাজে গেলে নিজেকে খোলামেলা মনে হতো না। জড়তা থাকার কারণে কোনো কাজেই মন বসছিল না তার। মনের সব জড়তা দূর করে দিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন নিজের পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে। বাবা আমির পালোয়ান ফরিদপুরে সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার, মা জোহুরা বেগম গৃহিণী, বড় বোন আফরোজা সুলতানা রিতা এবং ছোট বোন মিতু সব সময় আশরাফুলের সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষীদের অন্যতম।
ফুটবল রেফারি হওয়ার আশা নিয়ে ঢাকায় প্রথম কোর্সটি করলেন আশরাফুল। বাম হাতে ফুটবল ম্যাচের স্টপওয়াচ একই হাতে রেফারির বাঁশি। কোনো কষ্ট হয় না। আশরাফুল বলছিলেন আমার জন্ম থেকেই ডান হাতের কব্জি নেই। অনেক কাজ আমি করতে পারতাম না। হাতটা লুকিয়ে রাখতাম। জড়তায় ভুগতাম। একটা অসম্পূর্ণ হাতটা বাম হাতের মতোই স্বাভাবিকভাবে রাখলাম। কে কি বলল তা নিয়ে ভাবিনি। রেফারি হওয়ার অদম্য স্বপ্ন নিয়ে এসেছি।