এনায়েতপুরে নয় বছরেও নির্মাণ শেষ হয়নি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার!

ভাষা আন্দোলনের পুরোধা ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের জন্মভূমি এলাকা সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলাধীন এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দীর্ঘ ৯ বছরেও  নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের। ইট-পাথরের সুরকি দিয়ে মিনারের মাথা উঁচু করে দাঁড়ালেও শুধু বেদী নির্মাণ ও বাকি কিছু সৌন্দর্যের কাজ না হওয়ায় অবহেলায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে।

বর্তমানে গোপিনাথপুর, খুকনী, বেতিল, খামারগ্রাম, রুপনাই, রুপসীতে শহীদ মিনার স্থাপিত হলেও, সবার আগে এনায়েতপুরে উদ্যোগ নেয়া হয় শহীদ মিনার নির্মাণের। গত ১৭ বছর আগে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারি এফ.আর সরকার, মোশারফ হোসেন খান, খায়রুল আনাম শেখ, সংবাদ পাঠক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামানসহ এলাকার ক’জন শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এরপর ২০১০ সালের দিকে এলাকার সমাজ-সেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, নার্সিং কলেজ, গার্লস ও হাইস্কুল, কয়েকটি প্রাইমারি স্কুল, মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন স্কুলসহ অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রাম এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। তখন বিষয়টি জানতে পেরে তত্কালীন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এবং ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান তালুকদার আর্থিক সহায়তা দিলে মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণা ঘেঁষে ঐ বছরের ১৫ জানুয়ারি শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মাস খানেক কাজে পিলারগুলো পূর্ণভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালেও পূর্ণাঙ্গভাবে সমাপ্ত হয়নি। সেই থেকে ইট-পাথরের জমাট বাঁধা সুরকি নিয়ে তা কোনোভাবে দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে।

এ ব্যাপারে উদ্যোক্তা মোশারফ হোসেন খান ও মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম তবে দায়িত্বশীলরা সহযোগিতার হাত না বাড়ানোয় তা থমকে রয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মরণে মিনারটি নির্মাণে আশাকরি সবাই সদয় হবেন। অপর উদ্যোক্তা আখতারুজ্জামান তালুকদার ও ইব্রাহিম হোসেন জানান, আমরা সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। সাবেক মন্ত্রী লতিফ বিশ্বাসের মাধ্যমে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলাম। কিন্তু এলাকার সবার দায়বদ্ধতা না থাকায় পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছি না।