নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পরিবহন চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রবিবার মদনপুর এলাকায় ক্ষমতাসীনদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই ও ৮ সদস্যসহ দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। যার মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গুরুতর আহত খলিল মেম্বারকে (৪৮) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আহত খলিল মেম্বার গ্রুপ এশিয়ান হাইওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। পুলিশ অবরোধকারীদের রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা করলে অবরোধকারী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়।
জানা গেছে, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের দুই বারের নির্বাচিত মেম্বার খলিলকে কুপিয়ে আহত করার মধ্য দিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে পুলিশসহ দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত মেম্বার খলিল মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার নিজস্ব পোল্ট্রি ফিডের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় আমির গ্রুপের আমির সোহেলসহ অর্ধ শতাধিক মানুষ এসে তাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। একই সময়ে শাহ আলম নামে এক হকার তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও মাটিতে ফেলে কুপিয়ে আহত করা হয়।
খলিল মেম্বারের উপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে খলিল গ্রুপের সদস্যরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে আমির গ্রুপের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং নবী মার্কেটে অগ্নি সংযোগ করে। এ সময় খলিল মেম্বার গ্রুপ এশিয়ান হাইওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্ধ করে দেয় ও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে আমির গ্রুপও পাল্টা হামলা করলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে, খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপে পুলিশের ৮ সদস্য আহত হন। পরে র্যাব ও পুলিশের সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব চলে এলে অবরোধকারীরা সড়ক থেকে নেমে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। যান বাহনের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম বলেন, গুরুতর আহত দুজনকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন স্বাভাবিক রয়েছে, যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ