ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধের একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে পাস হয়েছে। প্রস্তাবটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার মিত্র সৌদি আরবের নিন্দা জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদে বুধবার ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৪১-১৭৭ ভোটে পাস হয় প্রস্তাবটি। রিপাবলিকান পার্টির ১৮ সদস্য ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সব সদস্য এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ ঘটনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হওয়ায় সেটাকে এখন সিনেটে পাঠানো হবে। সেখানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটররা ছাড়াও ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক সিনেটরও ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযানে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতার বিরোধী। এর আগে গত ডিসেম্বরেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব পাস করে সিনেট। তবে ওই বছরের মতো কংগ্রেস মুলতুবি হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আর অগ্রসর হয়নি।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জিম ম্যাক গভর্নর বলেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের নিক্ষেপ করা প্রায় সব বোমাই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি। সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানেও বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না মানুষের বাড়িঘর থেকে শুরু করে হাসপাতাল পর্যন্ত। এমনকী শরণার্থী শিবির ও স্কুল বাসেও বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। এভাবে বোমা নিক্ষেপের ফলে প্রতিনিয়ত ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বেসামরিক ব্যক্তিরা।
আইনপ্রণেতাদের এমন উদ্যোগ সত্ত্বেও ইয়েমেনে সৌদি জোটের আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বন্ধ করতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতোমধ্যেই সৌদিকে মার্কিন সমর্থন বন্ধে আনা প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভেটো দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের ভেটো উপেক্ষা করে প্রস্তাবটিকে কংগ্রেসে পাস করাতে হলে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ ভোট নিশ্চিত করতে হবে ডেমোক্র্যাটদের। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সিনেট এখনও রিপাবলিকানদের দখলে। তবে সিনেটের অনেক রিপাবলিকান সদস্যও আগ্রাসনে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতার বিরোধী। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই প্রস্তাব যথার্থ নয়। কেননা, ইয়েমেন যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী শুধু বিমানের জ্বালানি ও অন্য সহায়তা দিচ্ছে, তারা সরাসরি যুদ্ধ করছে না।