পৃথিবীর বহু দেশ প্লাস্টিক বর্জ্য অন্যকে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে চাইছে। কিন্তু ব্যতিক্রম মালয়েশিয়া। এটিই এখন পৃথিবীর অন্যতম বড় প্লাস্টিক-বর্জ্য-আমদানিকারক দেশ। কিন্তু এসব বর্জ্যের খেসারত দিচ্ছে ছোট্ট শহর জেনজারোম। ১৭ হাজার টন প্লাস্টিকের জঞ্জালের নিচে চাপা পড়ে শহরটি এখন ধুঁকে-ধুঁকে মরছে।
জেনজারোমের বাসিন্দা ড্যানিয়েল টেয়। গত গ্রীষ্ম থেকে জীবনটা তাদের নরক হয়ে গেছে। দরজা, জানালা সব কিছুর খিল এঁটে বন্ধ করে রাখলেও তাদের এখন আর প্রাণ খুলে শ্বাস নেবার জো নেই। ঘড়ির কাটা মধ্যরাত স্পর্শ করার পর থেকেই রোজ রাতে বিদঘুটে কটু ঝাঁঝালো গন্ধ চারদিক থেকে ঢুকতে থাকে ঘরে। রাবার পোড়ার গন্ধে ফুসফুস দম খুঁজে পায় না। কাশির দমকে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয় তখন। অবৈধ প্লাস্টিক রিসাইক্লিং বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে গোপনে চলে অব্যবহূত প্লাস্টিক পোড়ানোর কাজ। এ কারণেই মানুষের যত বিড়ম্বনা। ২০১৭ সালে চীন প্লাস্টিক বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে। কিন্তু এই সুযোগে বর্জ্য-বাণিজ্যের পুরোটা নিজেরা নিয়ন্ত্রণে নিতে এগিয়ে আসে মালয়েশিয়া। তখন ২০১৭ সাল, মাত্র এক বছরেই সাত মিলিয়ন অর্থাত্ ৭০ লাখ টন বর্জ্য নিজের দেশে আমদানি করে মালয়েশিয়া। এর পরের বছর ২০১৮ সালে জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যেই ছাড়িয়ে যায় এর আগের বছরের হিসেব। এই ক’মাসেই দেশটিতে প্রবেশ করে ৭৫ লাখ ৪শ’ টন প্লাস্টিক। বিপুল পরিমাণ এই বর্জ্য শিল্পের অর্থনৈতিক মূল্য ৭৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
স্লো পয়জনিং : বর্জ্যের অর্থমূল্য যেমন ব্যাপক, এর জন্য যে খেসারত দিয়ে চলেছেন জেনজারোমের বাসিন্দারা সেটিও বেশ ব্যাপক।
সবজাতের প্লাস্টিক পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করা যায় না। কিন্তু অব্যবহূত প্লাস্টিকগুলোকে প্রক্রিয়া মেনে ধ্বংস করতে হলে গাঁটের পয়সা খরচা করতে হবে। তাই নিজের টাকা বাঁচাতে গিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা গোপনে সেসব দূষিত প্লাস্টিক পুড়িয়ে দেয়। এর ফলে জেনজারোমের বাসিন্দা ড্যানিয়েল টেয়-এর মতই অন্যদেরও টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। নগো কিউই হং নামে একজন বলছিলেন কাশির দমকে কেমন করে তার বুক থেকে রক্ত বেরিয়েছে সেই কথা। দুর্গন্ধে ঘুম না আসায় রাতের পর রাত নির্ঘুম থাকায় শরীর কত ভেঙে পড়েছে সেই বিবরণও তিনি দিয়েছেন। আর নিজের ১১ বছর বয়সী ছেলের শারীরিক কষ্টের কথা তুলে ধরতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় মুষড়ে পড়েছেন মিজ. বেরে টান। তার ছেলের হাত-পা, গলা, পেটসহ শরীরে বিভিন্ন অংশে প্রথমে র্যাশ বা লাল-লাল ফুসকুড়ি উঠেছে। তারপর সেগুলো থেকে চামড়া খুলে পড়েছে। মূলত বায়ুু দূষণের কারণেই শিশুটির এই দশা বলে জানা যাচ্ছে। দূষিত বায়ু গ্রহণ করতে-করতে শিশুটির পুরো রেসপিরেটরি সিস্টেম বা শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার উপরেই প্রভাব পড়েছে।