জেলা সদরের সঙ্গে মেহেন্দিগঞ্জের সড়ক যোগাযোগের জন্য মাসকাটা নদীতে ক্রসড্যাম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ক্রসড্যাম নির্মাণ করে রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এলাকার পরিবেশ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মাসকাটার দৈর্ঘ্য সাড়ে ৪ হাজার মিটার, প্রস্থ ১৬শ’ ২০ মিটার। আর গভীরতা স্থান ভেদে ৬ থেকে ১০ ফিট। এই নদী দিয়ে বিভিন্ন রুটের যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করে। সরকারের তিনটি সংস্থার কর্মকর্তারা স্ব-স্ব দপ্তরের প্রধান বরাবর ক্রসড্যাম নির্মাণ বন্ধের আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক করে যথাযথ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল-পাতারহাট, ইলিশা-মজুচৌধুরীহাটের নৌ-পথটি কীর্তনখোলা, তেতুলিয়া, মাসকাটা ও মেঘনা নদীতে চলমান। এ নৌ-পথটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের একমাত্র নৌপথ যোগাযোগ মাধ্যম। এ নৌপথে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক নৌযানে যাত্রীসহ পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। মাসকাটা নদীতে পাতারহাট নামক স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্রসড্যাম নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ, মত্স্য বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান বরাবর দপ্তরের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ক্রসড্যাম নির্মাণ বন্ধের আবেদন করা হয়। এসব চিঠিতে উল্লেখ করা হয়— ক্রসড্যামের জন্য নৌ-পথটি বন্ধ হলে পানির প্রবাহ কমে যাবে। এতে গনেশপুরা ও তেতুলিয়া নদীতে নাব্যতা কমে যাবে। অর্থাত্ পায়রা সমুদ্র বন্দরে চলাচলকারী নৌ-যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। তা ছাড়া ক্রসড্যামের জন্য পানির প্রবাহ ডাইভারশন হয়ে শ্রীপুরের দিকে পানি প্রবাহ বেড়ে যেতে পারে। এতে জাহাঙ্গালিয়া ও শ্রীপুর এলাকায় প্রচুর ভাঙনের সম্মুখীন হতে পারে।
বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশালের কর্মকর্তারা জানান, ক্রসড্যাম নির্মাণ বিষয়ে গত বছরের আগস্টে পানি উন্নয়ন বোর্ড পওর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সভাপতিত্বে একটি মতবিনিময় সভা হয়। সভায় বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ক্রসড্যাম নির্মাণ না করে ব্রিজ নির্মাণ করার বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হয়। মো. রফিকুল ইসলাম জানান—তিনি বিষয়টি লিখিত ভাবে নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক বরাবর জানিয়েছেন। ক্রসড্যাম নির্মাণ বন্ধের জন্য একই ভাবে জেলা মত্স্য বিভাগ মহাপরিচালক বরাবর লিখিতভাবে জানিয়েছেন। জেলা মত্স্য কর্মকর্তা সাজদার রহমান জানান, ক্রসড্যাম নির্মাণ হলে ইলিশসহ মাছের প্রজননে ধস নামবে। এ ব্যাপারে ছাড়পত্র না দেওয়ার সুপারিশ করে কেন্দ্রে চিঠি পাঠিয়েছে বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর। অপর দিকে এটি হলে পরিবেশ বিপর্যয় হবে বলে মনে করছে নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলন।