হাসপাতালে ডাক্তারের অনুপস্থিতিকে দুর্নীতি বলে ধরা হচ্ছে

স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম-দুর্নীতি সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, অস্বীকার করব না-কাজ করতে গিয়ে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হতেই পারে। হাসপাতালে ডাক্তারের অনুপস্থিতিকে দুর্নীতি বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। ডাক্তারের সংকটই এখন সবচেয়ে বড় সংকট। ডাক্তারের অনুপস্থিতির কারণেই অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্প্রতি আমাদেরকে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। সেসব পরামর্শ রাখা না রাখার বিষয় মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয় নিজস্ব পলিসি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তাছাড়াও আমরা চেষ্টা করছি এই খাতে যেন দুর্নীতি না হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের  জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এখন থেকে আমরা নিয়ম করেছি— প্রতি উপজেলায় ৬ জন ডাক্তার হবেন এমও এবং ইএমও। এছাড়া উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য শাহে আলমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, চাহিদার তুলনায় আমাদের ডাক্তার অনেক কম। ডব্লিউএইচও’র মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ১২ জন করে ডাক্তার থাকার কথা, সেখানে আমাদের রয়েছে মাত্র ৪ জন। আরো ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগের বিষয়টি চলমান রয়েছে।

সরকারি দলের হুইপ আতিউর রহমান আতিকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন ডাক্তার নিয়োগের বিষয়টি পিএসসিতে রয়েছে। আশা করছি মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে আমরা নতুন ডাক্তার নিয়োগ দিতে পারব। মন্ত্রী বলেন, যেসব উপজেলায় বেশি ডাক্তার রয়েছেন সেখান থেকে ডাক্তার এনে  যেখানে কম আছে সেসব উপজেলায় দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জাপার এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) নির্বাচনী এলাকার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সরকার দলীয় এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা-৫ (ডেমরা, সারুলিয়া) নির্বাচনী এলাকার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও রংপুর-১ আসনের জাপার এমপি মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক জানান, সর্বশেষ ২০১৭ সালে ৪৩টি জেলার অন্তর্গত উপজেলাসমূহের আর্সেনিক রোগীর রেজিস্ট্রার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৮৬২ জন।

চট্টগ্রাম-৪ আসনের সরকার দলীয় এমপি দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক জানান, সরকার প্রতি জেলায় অন্তত একটি মেডিক্যাল কলেজ এবং প্রতি বিভাগে একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বগুড়া-৫ আসনের এমপি হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে ৭টি লাইফ সাপোর্ট কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স এবং ২৫টি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স কেনা হবে।

ফেনী-২ আসনের সরকার দলীয় এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক সংসদকে জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন স্থানে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক মানের শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বার্ন ইউনিটের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।