মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উৎপাদনে পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরের দেশের একমাত্র মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে গত শনিবার তিন শিফটে ৫ হাজার ৭শ’ ১৬ মেট্রিক টন পাথর উৎপাদন করেছে জার্মানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। জিটিসি ধারাবাহিকভাবে নিরলস পরিশ্রম করে প্রতিমাসে পাথর উত্তোলনের পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম করছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) নির্বাহী পরিচালক জাবেদ সিদ্দিকী জানান, অর্ধশতাধিক বিদেশী খনি বিশেষজ্ঞ, দেশী প্রকৌশলী ও ৭শতাধিক খনি শ্রমিক তিন শিফটে পাথর উত্তোলন কাজে নিয়োজিত আছেন। খনির দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে জিটিসি পাথর খনিটিকে লাভজনক করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। খনির নতুন স্টোপ নির্মাণ করে বিদেশী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ স্থাপন করে পাথর উত্তোলন বৃদ্ধিকে গুরুত্বের সাথে প্রতিমাসে ১ লাখ ২০ হাজার মে. টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জিটিসি গত অক্টোবর মাসে প্রায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার মে. টন পাথর উত্তোলন করেছে। পাথর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর ফলে খনি শ্রমিকদের বিগত মাসগুলোতে বেতন ও ওভার টাইমের সঙ্গে উৎপাদন বোনাস প্রদান করছে এখন জিটিসি। 

খনি সূত্রে জানা গেছে, গত ২০০৭ সালে খনি থেকে দৈনিক তিন শিফটে ৫ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু প্রায় ৭ বছর ধরে তিন শিফটে পাথর উত্তোলন করতে সক্ষম হয়নি। ফলে খনিটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে বন্ধের উপক্রম হয়।

মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন চুক্তির পর জিটিসি তিন শিফটে দৈনিক ৫ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আরো একধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন খনি সংশ্লিষ্ট।

পাথর উত্তোলন ও বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যাবেদ চৌধুরী জানান, খনিতে পাথর উত্তোলন আগের চেয়ে বেড়েছে। সেই সাথে পাথর বিক্রিও পূর্বের যেকোন সময়ের চেয়ে বেড়েছে। 

ইত্তেফাক/বিএএফ