তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যই শক্তি। সেই শক্তিকে চুরি করিবার জন্য কম্পিউটারে সিঁধ কাটিবার সম্ভাব্য সকল উপায় খুঁজিয়া থাকে চৌর্যবৃত্তিকারেরা। কম্পিউটার হইতে তথ্যচুরি তথা হ্যাকিং করিতে নানা ধরনের প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়। সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে থাকে বলিয়া ইহাদের সাধারণভাবে ম্যালওয়্যার বলা হইয়া থাকে। তিন প্রকারের ম্যালওয়্যার রহিয়াছে যাহাদের সহিত আমরা কম বেশি পরিচিত। এগুলি হইল—ভাইরাস, ট্রোজেন আর ওয়ার্মস। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান কমপারিটেক জানাইয়াছে যে, তাহাদের গবেষণালব্ধ ৬০টি দেশের মধ্যে অত্যন্ত নিম্নমানের সাইবার নিরাপত্তার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছয় নম্বরে। সাইবার নিরাপত্তা প্রস্তুতি, হালনাগাদ, সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন বিবেচনা করিয়া এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হইয়াছে। কমপারিটেক জানাইয়াছে যে, বাংলাদেশের ডেক্সটপ কম্পিউটারের ২০ শতাংশ ও মোবাইল ফোনের ৩৬ শতাংশ ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর প্রোগ্রাম দ্বারা আক্রান্ত। মোবাইলে ম্যালওয়্যার ইনফেকশনের দিক হইতে বাংলাদেশের পরে রহিয়াছে কেবল উজবেকিস্তান, তানজানিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও আলজেরিয়ার মতো দেশ।
সাইবার নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা কতখানি অসচেতন, এই গবেষণা প্রতিবেদনে তাহারই প্রতিফলন ঘটিয়াছে। অনুন্নত ও শিক্ষা হইতে তুলনামূলক পিছাইয়া পড়া দেশগুলি সাইবার নিরাপত্তায়ও পিছাইয়া রহিয়াছে। ইহার বিপরীতে, উন্নত দেশসমূহের সাইবার নিরাপত্তা অত্যন্ত বেশি। যেমন গবেষণা প্রতিবেদনের তালিকা সাইবার নিরাপত্তার দিক হইতে শীর্ষে রহিয়াছে জাপান। ইহার পরের অবস্থানে যথাক্রমে ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশ। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় পৌণে তিন কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী রহিয়াছে, যাহাদের মধ্যে ৯০ লক্ষাধিক ফোন ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত। এইক্ষেত্রে প্রথম সমস্যা হইল, সাধারণ ব্যবহারকারীরা ‘ম্যালওয়ার’-এর ব্যাপারে খুব কমই জানেন। যাহারা ম্যালওয়্যার জিনিসটা কিছুটা বোঝেন, তাহারা আবার অতি সাবধানতার ফাঁদে পড়েন। ম্যালওয়্যার হইতে রক্ষা পাইতে অনেকেই অ্যান্টি-ম্যালওয়ার বা সিকিউরিটি টুলস নামের কিছু অ্যাপলিকেশন প্লে স্টোর হইতে ডাউনলোড করেন, যাহার বেশিরভাগই স্ক্যাম! এমনকী কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রদানের কথা বলিয়া ওই সকল অ্যাপ্লিকেশনও অনেক ক্ষেত্রে ম্যালওয়্যারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ম্যালওয়ারের পূর্ণরূপ হইল ‘ম্যালিসিয়াস সফটওয়্যার’, অর্থাত্ যাহা স্বাভাবিক কাজের বাহিরে অস্বাভাবিক বা অবৈধভাবে আপনার কম্পিউটারের এক্সেস লইয়া থাকে। কেহ যদি কোনো ম্যালিসিয়াস-সমৃদ্ধ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন এবং কোনো ম্যালিসিয়াস সফটওয়্যার ডাউনলোড করেন কিংবা ম্যালিসিয়াস ই-মেইল ওপেন করেন, তাহা হইলেই কেবল কাহারো কম্পিউটারে বা স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করিবার পথ খুঁজিয়া পায়।
ম্যালওয়ারের এই ঝামেলা হইতে সহজে পরিত্রাণ পাইবার একটি উপায় হইতেছে, শুধু নির্ভরযোগ্য উত্স হইতে অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করা। অন্যদিকে স্মার্টফোনে গুগল প্লে স্টোর হইতে কোনো একটি অ্যাপ ডাউনলোড করিবার সময় উহার রিভিউ ভালো করিয়া পড়িয়া দেখা যাইতে পারে। অ্যাপ ইন্সটল করিবার সময় ইহার চাওয়া অনুমতিগুলির দিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। খুব বেশি পারমিশন বা অনুমিত চাহিলে অথবা অপ্রাসঙ্গিক অনুমতি চাহিলে তাহা এড়াইয়া চলাই উত্তম। মনে রাখিতে হইবে, নিজের স্মার্টফোনের নিরাপত্তা নিজের হাতে। এইক্ষেত্রে অজ্ঞতা কিংবা নির্বুদ্ধিতা পরিত্যাজ্য।