আগে সুযোগ পরে সুবিধা

সুযোগ ও সুবিধা শব্দ দুটি উচ্চারণগত দিক থেকে একই হিসেবে ভাবলেও আদতে একই অর্থ বহন করে না। একটির অর্থ ক্ষেত্র এবং অন্যটি হালনাগাদস্বরূপ হিসেবে বিবেচ্য। বর্তমান সমাজে যেখানে যোগ্যতা প্রদর্শনপূর্বক-ও কোনো সুযোগ মেলে না, অন্যকথায় যোগ্যতা প্রকট করার কোনো সুযোগ নেই, সেখানে বিস্তর—স্তর সুবিধা সৃষ্টি করে কী লাভ? এর কারণ কি টাকা না থাকা? নাকি অন্য কিছু? অনেক কাজের ক্ষেত্র বা প্রতিষ্ঠানে পরিলক্ষিত হয় যে, সেখানে পূর্বকর্মরতদের নানান সুবিধা দেওয়া হয় এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির খাতিরে উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনও নিয়মিত দৃশ্যমান। এতে কোনো আপত্তি কিংবা বিরোধ নেই। তাদের যোগ্যতাকে প্রসারের জন্য এতকিছু করা হয় কিন্তু প্রায়শই অস্বাভাবিকভাবে যারা যোগ্যতা সম্পন্ন তারাই ক্ষেত্র-সুযোগের অভাবে নিজেদের যোগ্যতাকে প্রকাশের সুযোগ পায় না। তাদের সুযোগ দেওয়া হলে তারা নিজেরাই স্ব স্ব সুবিধা তৈরি করতে সক্ষম। নতুনকে সুযোগ দেওয়া না হলে নতুনত্ব আসবে কিভাবে।

সুবিধা প্রসারণের ক্ষেত্রে আমি যে দ্বিমত পোষণ করছি তা কিন্তু নয়। এটির মূল্যও কোনো অংশে কম নয়। সুযোগের পরই স্বতন্ত্র ও এককভাবে স্থান করে আছে সুবিধা প্রসঙ্গটি। তরুণকে সুযোগের পাশাপাশি সুবিধা তথা গ্রহণও করতে হবে। তা না হলে সঙ্গীহীন মানুষের মতো সেও নির্জীব হয়ে যাবে। উদাহরণে দেখাব  শস্যখেতকে। একক ফসলের খেতে বারবার একই শস্য উত্পাদনে শুধু যে খেতের কার্যকারিতা কমে যায় তা নয়, বরং সেটির কার্যকারিতা নষ্টও হতে পারে। ফলে বুদ্ধিমানের কাজ এটাই হবে যে সময় থাকতে থাকতেই পূর্ব শস্যমূল্য দিয়ে নতুন খেত ক্রয় করা। আর তাতে মূল্য সংযোজনের জন্য পুরানো শস্যের বদলে নতুন শস্যের চর্চা করা। এভাবেই একপর্যায়ে সবিশেষ ক্ষেত্র মিলিয়ে আর্থ-সামাজিক সচ্ছলতা ও স্বয়ংসমপূর্ণতা ঠেকানো দুঃসাধ্য। দেশের উন্নতিও যদি এই সাপেক্ষে বিচার করি তাহলে সুযোগ সৃষ্টিতে অসুবিধা কোথায়। নতুন ফলের স্বাদের চেয়ে এর স্বাদও কিছু কম নয়। আধুনিক প্রজন্ম যে ভবিষ্যতের কর্ণধার তা কি শুধু প্রবাদ বাক্য-ই, বাস্তব নয়?

সন্দেহ প্রকাশ করে বলাই যায়—সে কি পারবে। সুযোগ দিয়ে, সুযোগ সৃষ্টি করে দেখাই যাক না। স্বশিক্ষিত জনসমাজ কেন তার যোগ্যতাকে নিজের কাছে আড়াল করে রাখছে। এর কারণ কি আর্থিক-সংকটাপন্ন অবস্থা? এই কারণে কি সে সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে? অতি অভাবিত যোগ্যতা বা যোগ্যতাহীনতা নিয়ে শুধু অর্থের জোরে নিজেকে যোগ্য হিসাবে স্থান করে নেবে—এ কেমন বিচার। যোগ্য তরুণকে নিজ দায়িত্বে সুযোগ দাও, একদিন এমনও আসতে পারে যে সে নয় বরং তুমিই উলটো তার কাছে ঋণী হয়ে থাকবে। দেশকে ভালোবেসে থাকলে সুযোগ সৃষ্টিতে কুণ্ঠিত হয়ো না। কে জানে অন্ধকারের আড়ালে একটি জমকালো আলো থাকল না! যা কি না স্বর্ণের চেয়ে কিছু কম নয়।

কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর