মৌলভীবাজারের কৃষি ও বনাঞ্চল অধ্যুষিত কমলগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ইটের ভাটা। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও কৃষিজমিতে নির্মিত ইটভাটার ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছয় বিদ্যালয়ের কয়েক হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী। ভাটার তপ্ত আগুনে পুড়ছে ফসলি জমির উর্বর মাটি। ইটভাটার কারণে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে আছেন বলে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদরে কমলগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ঘেঁষা কৃষিজমির উপর একটি ইটভাটা, জালালিয়া এলাকায় বেগম জেবুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানার দু’পাশ ঘেঁষে কৃষিজমির উপর ও মুন্সীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাজেদা বারি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির উপর রয়েছে বিশালাকৃতির ইটভাটা। এছাড়াও উপজেলার ফসলি জমিতে রয়েছে আরো ১১টি ইটভাটা। বিদ্যালয় ঘেঁষা ইটভাটাসমূহের প্রায় দশ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ছাড়াও হাটবাজার, লোকালয়ের হাজার হাজার বাসিন্দা প্রতিনিয়ত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি সবক’টি ইটভাটায় ব্যাপকহারে কৃষিজমির উর্বর মাটি নিয়ে স্তূপীকৃত করা হচ্ছে এবং ধুলাবালিতে পুরো এলাকা সয়লাব হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে রয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
জানা যায়, ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাহাড়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং লোকালয় থেকে তিন কি.মি. দূরত্বের মধ্যে কোন ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না। এছাড়াও কৃষিজমিতে ইটভাটা তৈরির আইনগত নিষেধ থাকলেও কৃষিজমি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বনাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে এসব ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আহমদ সিরাজ, কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির, কমলগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, কালী প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের একেবারে সন্নিকটে ইটভাটা থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের জন্য এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে। এ বিষয়টি নিয়ে গত দু’বছর ধরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে উপজেলা পরিষদের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইয়াহিয়া বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা লোকালয়ের পাশে ইটভাটার ফলে শ্বাসকষ্ট, কাশি, এলার্জি, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ বিস্তারের আশঙ্কা থাকে।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, এখানে আমি এসেছি কয়েক মাস হয়েছে। তবে ইটভাটার বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে।