ছাতকে কৈতক-হায়দরপুর ভায়া কলকলি সড়কের পাকাকরণ কাজ তিন বছরেও সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উপজেলার জাউয়া, ভাতগাঁও, সিংচাপইড় ইউনিয়ন ও জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলি ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
জানা যায়, সড়কের কামারগাঁও থেকে সিরাজগঞ্জ সড়কের ৭ কিঃ মিঃ পাকাকরণ কাজের টেন্ডার হয় ২০১৫ সালে। ৭ কোটি ৪৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় কাজটি গ্রহণ করে টাওয়ার এন্টারপ্রাইজ। দুটি ব্রিজ নির্মাণসহ সড়কের অপর অংশের কাজ পায় ঠিকাদার নুরুল ইসলাম। এ দিকে, কৈতক-কালিপুর অংশে বিটুমিন কার্পেটিং কাজ কিছুটা হয়েছে। সমাপ্ত হয়েছে কালিপুর-কামারগাঁও বাজার পর্যন্ত বিটুমিন কার্পেটিংয়ের কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ ৩ বছর ধরে পড়ে থাকা কামারগাঁও থেকে হায়দরপুর হয়ে কলকলি সড়কের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না।
স্থানীয় হায়দরপুর গ্রামের কবির মিয়া, আশিক মিয়া, জালাল উদ্দিন, মণ্ডলপুর গ্রামের আখলুছ মিয়া, জহিরপুর গ্রামের লেবু মিয়া, সোহেল মিয়া, কলকলি গ্রামের মিজানুর রহমান, মামদপুর গ্রামের ছইল মিয়া, কামারগাঁও গ্রামের লুত্ফুর রহমান জানান, সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে ৩ বছর আগে থেকে। ফলে বর্ষায় কাদা ও শীতে ধুলোর মধ্যে সড়ক দিয়ে চলতে হচ্ছে এলাকার লোকজনকে। এ সড়কের পাশে সিরাজগঞ্জ বাজার, কামারগাঁও বাজার, কালিপুর পয়েন্ট, তাজগঞ্জ বাজারসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক ও গুরুত্ব স্থান রয়েছে। সড়কটির পাকাকরণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ার কারণে ঝিগলী উচ্চ বিদ্যালয়, জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, সমতা উচ্চ বিদ্যালয়, হায়দরপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলকলি কলেজ ও হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদেরও দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সড়ক পাকাকরণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন মাস্টার সড়কের কাজ মন্থরগতিতে হওয়ায় এখানে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে দ্রুত সড়ক পাকাকরণসহ কেওয়ালীপাড়া ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার নুরুল ইসলাম জানান, তার দুটি ব্রিজের মধ্যে একটি ব্রিজের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অ্যাপ্রোচ সড়কসহ অন্য ব্রিজটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
ছাতক উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবুল মনসুর মিয়া জানান, কৈতক থেকে হায়দরপুর হয়ে কলকলি সড়কের পাকাকরণ ও সংস্কার কাজ ৪টি ভাগে টেন্ডার হয়েছে। দুটি কাজ সম্পন্নের পথে। কামারগাঁও বাজার থেকে কলকলি পর্যন্ত সড়ক ও ব্রিজের কাজ দুই জন পৃথক ঠিকাদারের আওতায় রয়েছে। তারা মধ্যখানে বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ করে রেখেছিলেন। বর্তমানে কার্পেটিং কাজ চলছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারদের তাগিদ দেয়া হয়েছে।