বাঘা সীমান্তের সাত গ্রামে দুই শতাধিক চোরাকারবারি

দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পর গা ঢাকা দিয়েছে বাঘা সীমান্ত এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা। এ উপজেলার ৭ গ্রামে দুই শতাধিক চোরাকারবারি রয়েছে। এরমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শীর্ষ পর্যায় ৫০ জনের নাম তালিকাভুক্ত করেছে। এদের মধ্যে তিনজনের নামে হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক চোরাচালান মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মাসিক সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

পুলিশের দেয়া তথ্য মতে, উপজেলার সীমান্ত এলাকার ৭টি গ্রামে দুই শতাধিক চোরাকারবারি থাকলেও এখানে আলোচনায় রয়েছে শতাধিক ব্যক্তির নাম। এরমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শীর্ষ পর্যায় ৫০ জনের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। এদের মধ্যে তিনজনের নামে রয়েছে হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ  ১০ এর অধিক চোরাচালান মামলা।

এদিকে জেলা পুলিশের একটি মুখপত্র জানায়, চলমান মাদক বিরোধী অভিযান সফল করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বাঘা সীমান্ত এলাকার-আলাপুর, কিশোরপুর, মহদিপুর, পাকুড়িয়া, হেলালপুর, মীরগঞ্জ ও ভ্যাজালির মোড় এই  ৭টি গ্রাম থেকে দুই শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। গডফাদার হিসেবে রয়েছে ২১ জনের নাম। এর মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে তিনজন। তাদের দেয়া তথ্য মতে, পুরাতনরা এই মুহূর্তে গা ঢাকা দিয়েছে। এদিক থেকে যারা এই মুহূর্তে চোরাচালান ব্যবসা করছে তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাঘা সীমান্ত এলাকার দু’জন স্কুল শিক্ষক জানান, এ উপজেলায় কয়েকটি গ্রামের মধ্যে চোরাচালান ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য মীরগঞ্জ ও কিশোরপুর। এই দুই গ্রাম থেকে রাজশাহী, নাটোর, ঈশ্বরদী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের রাস্তা (হাইওয়ে) সরাসরি ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে এই দুই গ্রামে তৈরি হয়েছে একাধিক চোরাচালান সিন্ডিকেট। যাদের কাজ হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ফেন্সিডিল, মদ ও ইয়াবা ট্যাবলেট এনে অত্র এলাকার যুব-সমাজকে ধ্বংস করাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা। এদের মধ্যে মীরগঞ্জ এলাকা থেকে ২৫ জন চোরাকারবারির তালিকা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এই ২৫ জনের মধ্যে ১৭ জনের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এরা দীর্ঘদিন থেকে ফেন্সিডিল ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত বলে তারা উল্লেখ করেন।

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহাসিন আলী বলেন, চোরাকারবারিদের সাথে আমার কোনো আপোষ নেই। আমি গত বছরের শেষ মুহূর্তে এ থানায় যোগদান করে প্রায় দেড় শতাধিক চোরাকারবারির নামের তালিকা ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছি। এরমধ্যে শীর্ষ চোরাকারবারি’র তালিকায়  রয়েছে প্রায় ৫০ জন। তারমধ্যে ১০-১৫ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।