বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট আসন্ন উপজেলা নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলেও তা মানছেন না অনেক স্থানীয় নেতা। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে কেউ প্রার্থী হলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে— এমন হুঁশিয়ারিকেও পরোয়া করছেন না তারা। আগামী ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলার ভোটে বিএনপির অন্তত ২০-২২ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অধিকাংশ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যানের দুটি পদেই প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় নেতারা। আগামী মঙ্গলবার ১৯ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে তাদের কেউই প্রত্যাহার করবেন না বলে জানা গেছে। বিএনপির উপজেলার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হলেও হলফনামায় নিজেদের স্বতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। পরবর্তী চারটি ধাপের নির্বাচনেও অংশ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বহু নেতা। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন হবে আগামী ১৮ মার্চ।
এদিকে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যারা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন তাদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠাতে তৃণমূলকে নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। আমাদের সংবাদদাতারা জানান, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির উপজেলা সভাপতি ডি এম জিয়াউর রহমান, বাঘায় চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আলম মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা দিল আফরোজ রুমি। পঞ্চগড় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান, বোদায় পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন, দেবীগঞ্জে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল গণি বসুনিয়া এবং উপজেলায় বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাখখারুল আলম। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন ওলামা দলের জেলা সভাপতি আ ন ম রুহুল ইসলাম।
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোখলেসুর রহমান, নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রউফ তালুকদার, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর উদ্দিন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খালেদুর রশিদ, চুনারুঘাট উপজেলায় বিএনপির সভাপতি সৈয়দ লিয়াকত হাসান, মাধবপুর উপজেলায় বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মো. শাহজাহান, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আনিসুল হক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক আহমদ, দোয়ারাবাজার উপজেলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রমুখ।
নাটোর জেলার গোলাম সারওয়ার বলেন, দুই বার চেয়ারম্যান ছিলেন। দলের সিদ্ধান্তের চেয়েও প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তা বড় ধরনের ফ্যাক্ট। দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবছি না। এ প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সিদ্ধান্ত অবশ্যই মানতে হবে। অন্যথায় দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কেউ পদত্যাগ না করে নির্বাচন করলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আছে।
প্রসঙ্গত, প্রথম ধাপের ৮৭টি উপজেলার মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি
সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন ৩২ জন।