বিশ্ব ইজতেমায় জুমার নামাজে মুসল্লির ঢল

আম বয়ানের মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে তাবলিগ জামাতের চার দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা। আর বিশ্ব ইজতেমা শুরুর প্রথম দিনেই টঙ্গীর তুরাগ তীরে বৃহত্তম জুমার নামাজে সমবেত হন লাখো মুসল্লি। বৃহসপতিবার থেকে আসতে থাকা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল শুক্রবারও অব্যাহত থাকে। আসছেন বিদেশি মেহমানরাও। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত ৫০টি দেশের প্রায় দুই হাজার বিদেশি মেহমান এসেছেন। ইজতেমাস্থলে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে সেজন্য তীক্ষ সতর্ক দৃষ্টি রাখছে পুলিশ, র্যাব ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

আজ শনিবার দুপুরের আগে ইজতেমা ময়দানে দেওবন্দপন্থিদের পরিচালনায় আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। মোনাজাত শেষে তারা ময়দান ছেড়ে চলে গেলে আগামীকাল রবিবার বাদ ফজর থেকে মাওলানা সা’দপন্থিদের পরিচালনায় ইজতেমা ফের শুরু হবে। সোমবার সকাল ১১টার দিকে মাওলানা সাদপন্থিদের পরিচালনায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে চার দিনের ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা।

গতকাল ইজতেমা ময়দানে জুমার জামাতের ইমামতি করেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জোবায়ের। ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখো মুসল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হন।

জুমার নামাজে শরিক হন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ওয়াইএম বেলালুর রহমান, জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজম উল্লাহ খান প্রমুখ।

 

প্রথম দিনের বয়ান

প্রথম দিন গতকাল বাদ ফজর পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হকের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পক্ষের আনুুষ্ঠানিকতা। বাদ জোহর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন, বাদ আছর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল বার ও বাদ মাগরিব বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা। এসব বয়ান বিভিন্ন ভাষায় তরজমা করেন বিভিন্ন দেশের তাবলিগ মুরব্বিগণ। মূল বয়ান উর্দুতে হলেও বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফারসিসহ বিভিন্ন ভাষায় তাত্ক্ষণিক অনুবাদ করা    হচ্ছে। বয়ানে বলা হয়, পৃথিবীতে ঈমানের মূল্য অনেক বেশি। ঈমানকে মজবুত করতে হলে আমাদের দাওয়াতি কাজে সময় লাগাতে হবে। আমরা যেন আল্লাহ পাকের হুকুমমতো সারা জীবন চলতে পারি সে চেষ্টা করতে হবে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে ও সারা দুনিয়ায় মানুষের মাঝে দীন কায়েম করার জন্য ছড়িয়ে পড়তে হবে।

ইজতেমা ময়দানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ শুক্রবার সকালে ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কন্ট্রোরুমে সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশে বলেন, বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন দু’পক্ষের শীর্ষ মুরুব্বীরাই করেছেন। তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইজতেমা চলছে।

যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ : শনিবার ইজতেমার প্রথম পক্ষের আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে মুসল্লিদের সুবিধার্থে শুক্রবার রাত থেকেই ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান জানান, শুক্রবার মধ্যরাত হতে টঙ্গী ব্রিজ, কামারপাড়া ব্রিজ, ভোগড়া বাইপাস, মীরেরবাজার থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে।

 

তিন মুসল্লির মৃত্যু : বিশ্ব ইজতেমায় আরো তিন মুসল্লি ইন্তেকাল করেছেন। এরা হলেন কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার ঝাউদিয়া গ্রামের মৃত আফছার আলীর ছেলে মো:সিরাজুল ইসলাম (৬৫) ও ফেনী জেলা সদর এলাকার নাজির আহমদের ছেলে শফিকুর রহমান (৫৮) ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার মৃত হাতেম আলীর ছেলে মো:আব্দুর রহমান (৫৫)। ইজতেমা মাঠে নামাজে জানাজা শেষে তাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।