এমনিতেই ফেব্রুয়ারি ২৮ দিনের মাস, চার বছর পরপর ২৯ দিন। এই সময়টাতে বইমেলা চত্বর পরিণত হয় জাতির ফুসফুসে। জাতি যতোটা সম্ভব এক বছরের সুবাতাস সঞ্চয় করতে চেষ্টা করে এই সময়টাতেই। বড্ড বেশি চাপ পড়ে ফুসফুসের উপর। জাতির সুস্বাস্থ্যের জন্য আমরা কি প্রতিদিনই একটু একটু করে সুবাতাসের যোগান দিতে পারি না?
আমরা মস্তিষ্কের চেয়ে পায়ের গুরুত্ব বেশি দিয়ে থাকি বলেই বলাকা ভবনের তিনটি বইয়ের দোকান জুতোর দোকান বানিয়ে ফেলেছি। নিউমার্কেটের কটি বইয়ের দোকান স্যুটকেস, ব্রিফকেস, ভ্যানিটি ব্যাগের দখলে চলে গেছে। স্টেডিয়ামে ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ, টেলিভিশন দোকান থেকে বই ঝেটিয়ে বিদায় করেছে। আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেটের বইয়ের দোকানে ঝুলছে টি-শার্ট আর ম্যাক্সি। জেলা শহরের রেলস্টেশনে রেলওয়ে বুকশপগুলোর একটিতেও সম্ভবত বই নেই। আপনি প্রিয়জনকে বই উপহার দেবেন? কিন্তু বই পাবেন কোথায়? আমি পড়ি এবং লিখি। আমার পুরনো একটি দাবি আবার পেশ করতে চাই। বই পেতে চাই ফেব্রুয়ারির পরেও। বাংলা একাডেমির আশ-পাশে। এই জায়গাটা আমাদের অনেক চেনা এবং অনেক প্রিয়।
আমার দাবিনামা:১. টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত সব ধরনের যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহনমুক্ত থাকুক। ২. রাস্তার দু’পাশে বইয়ের মেলা বসবে। প্রিফ্যাব্রিকেটেড স্ট্রাকচারে দু’পাশে একক ইউনিট ১০০ স্টল তৈরি করে দিক বাংলা একাডেমি, প্রকাশক/বই বিক্রেতা ভাড়াতেই নেবেন। একমাস পর নতুন আর একদল প্রকাশক ও বই বিক্রেতা আসবেন। চক্রাকারে এসুযোগ সবাই পাবেন। কেবল ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ থাকবে গ্রন্থসরণির নিত্যদিনের বইমেলা। ৩. নীলক্ষেত ফুটপাতে পুরনো বই বিক্রি অব্যাহত থাকুক, এখানে পুলিশি অভিযান দরকার নেই, কাঁটাবন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘেঁষা নীলক্ষেত প্রান্ত পর্যন্ত ফুটপাত কেন্দ্রিক বইপত্র বিক্রির সহজ সুযোগ সৃষ্টি করা হোক। ৪. উত্তরা থেকে বাংলা একাডেমির দূরত্ব যত কমই হোক একবার এ প্রান্তে এলে বাড়ি ফিরতে দিন কেটে যায়। রবীন্দ্রনাথ ও জসীম উদদ্ীনের নামে সেখানে সরণি রয়েছে, কেবল তাতে বই নেই। এ দুটি সড়কের কোনোটিতে উত্তর ঢাকার সিটি করপোরেশন আপাতত নিত্যদিনের না হলেও সপ্তাহে দু’দিনের বইয়ের হাট বসাতে পারলে উপকার আমাদের সবারই হতো। ৫. কেবল ঢাকার কথা বললাম- চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা সব বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরে বইয়ের হাট বসুক। সরকার, স্থানীয় সরকার এর আয়োজন করুক। কথা একটাই, এ সবের নিয়ন্ত্রণ দলবাজদের হাতে যেন না থাকে।
টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর হবে যানবাহনমুক্ত গ্রন্থসরণি- আর এই ঘোষণাটি আসুক এই ফেব্রুয়ারিতেই। লেখক:কথাসাহিত্যিক