ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

পঞ্চম দিন সকালে কোনো অতিমানবীয় পারফরম্যান্স ছাড়া ম্যাচ বের করা মুশকিল ছিল। সেটা হলো না। শ্রীলঙ্কাকে তাই হারতেই হলো। ৭ উইকেটে ২২৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় ২৪৩ রানে। দ্বিতীয় টেস্ট ৫৭ রানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ইংল্যান্ড।

পাল্লেকেলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জয়ের জন্য শেষ দিন শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৭৫ রান, ইংল্যান্ডের ৩ উইকেট। শেষ দিনে লড়াইও করতে পারেনি স্বাগতিকরা। আগামী ২৩ নভেম্বর থেকে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট।

সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে শ্রীলঙ্কার আশা হয়ে টিকে ছিলেন নিরোশান ডিকভেলা। এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানকেই ফিরিয়ে পঞ্চম ও শেষ দিন শুরু করে ইংল্যান্ড। অফ স্পিনার মইন আলিকে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে বেন স্টোকসের হাতে ধরা পড়ে শেষ হয় তার ৩৫ রানের ইনিংস। এক বল পরে সুরঙ্গা লাকমলকে বোল্ড করে দলকে জয়ের আরো কাছে নিয়ে যান মইন।

ফিরতি ক্যাচ নিয়ে মালিন্দ পুস্পকুমারাকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার জ্যাক লিচ। মাত্র ১৭ রান যোগ করে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংস।

ম্যাচ জুড়ে ছিল স্পিনারদের দাপট। ৪০ উইকেটের ৩৮টি নিয়েছেন স্পিনাররা, যা টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ১৯৬৯ সালে নাগপুরে ভারত-নিউজিল্যান্ড টেস্টে স্পিনারদের ৩৭ উইকেট ছিল আগের সেরা।

টেস্টে পঞ্চমবারের মতো ম্যাচে ১৯ উইকেট নিল ইংলিশ স্পিনাররা। ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র ১১বার উইকেটশূন্য থাকল পেসাররা।

লিচ ৫ উইকেট নেন ৮৩ রানে। মইন ৭২ রানে নেন ৪ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলা ১২৬ রানের ইনিংস অধিনায়ক রুটকে এনে দিয়েছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

পাল্লেকেলেতে এক টেস্টে সর্বাধিক উইকেট শিকারের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করল স্পিনাররা। ম্যাচে ৪০টির মধ্যে ৩৮টি উইকেটই নিয়েছেন স্পিন বোলাররা। যা টেস্ট ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করল। তিন স্পিনার জ্যাক লিচ, মইন আলী এবং আদিল রশিদের সমন্বিত আক্রমণে ২০০১ সালের পর প্রথমবার স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিশ্চিত করেছে সফরকারী ইংল্যান্ড।

ওয়ানডে ও টি-২০’র পর এবার পাল্লেকেলেতে ৫৭ রানে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড।

স্পিন সহায়ক পিচে উভয় দলের স্পিনাররা ৪০টির মধ্যে ৩৮ উইকেট শিকার করেছেন। এ পর্যন্ত কোনো এক টেস্টে যা স্পিনারদেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড। একই সঙ্গে এটা প্রথম কোনো টেস্ট ম্যাচ হলো যেখানে পেসাররা কোনো উইকেট নিতে পারেননি।

এর আগে ১৯৬৯ সালে নাগপুরে ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে স্পিনারদের সর্বোচ্চ উইকেট শিকার ছিল ৩৭টি। তার আগে দুই বার এক টেস্টে স্পিনারদের সর্বোচ্চ উইকেট শিকার ছিল ৩৫টি। ১৯৫৬ সালে কোলকাতায় ভারত-অস্ট্রেলিয়া এবং ১৯৮৭ সালে বেঙ্গালুরুতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে স্পিনাররা ৩৫ উইকেট শিকার করেছিলেন।

এক টেস্টে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট শিকার করা ইংল্যান্ডের বাঁ-হাতি স্পিনার লিচ ম্যাচ শেষে বলেন, ‘অবিশ্বাস্য খুব ভালো লাগছে। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করেছে, সত্যিই ছেলেরা কৃতিত্ব পাওয়ার দাবিদার। তবে এখানে বোলিং করাটা খুব সহজ ছিল না। ধারাবাহিকভাবে লাইন লেন্থ ঠিক রেখে বোলিং করতে হয়েছে।’

n ২০১৫-১৬ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার পর দেশের বাইরে ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়

n ২০১২-১৩ মৌসুম ভারতের পর এশিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় ইংল্যান্ডের

n ২০০১ সালের পর শ্রীলঙ্কার মাটিতে ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়

n অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে সুরঙ্গ লাকমালের প্রথম হার

n দেশের অধিনায়ক জো রুটের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়